দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা 

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা এখনও আগের মতোই। ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের জীবন নাভিশ্বাস। তাপমাত্রা যে খুব বেশি, তাও বলা যাবে না। কিন্তু তারপরও এমন গরমের কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আকাশে মেঘ জমে থাকার কারণে গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। সেইসঙ্গে বাতাসে আদ্রতাও বেশি। এরফলে ঘাম দ্রুত শুকোচ্ছে না। মূলত এ কারণেই তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

এদিকে আজ এবং আগামীকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এতে তাপমাত্রার পারদ আরও কিছুটা নেমে ভ্যাপসা গরম কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতকাল ও আজ অনেক এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দেশের চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায়। এদিকে ঢাকার কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল এখন বৃষ্টিহীন। তাই যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা গরম কমাতে পারেনি। এদিকে বাতাসে আদ্রতা বেশি হওয়ার কারণেও তাপমাত্রার তুলনায় গম বেশি অনুভূত হচ্ছে। 

কবে নাগাদ গরম কমতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ এবং আগামীকাল শুক্রবার বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে অনেক এলাকায় বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে আসবে। এরপর দিনগুলোতে তাপমাত্রা ধীরে ধিরে কমতে শুরু করবে বলেও জানান তিনি। 

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, উড়িষ্যা, গাঙ্গেয় পশ্চিম বঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশের উপকূল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এতে সারা দেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।