আগামী ১২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এতে ওই এলাকার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে আগামী তিন দিন পদ্মার পানি বাড়তে পারে। ফলে নতুন করে পদ্মা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর দুই পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং আশপাশের অঞ্চলে সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও মিজোরাম প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা (১৪ আগস্ট ৯টা থেকে ১৫ আগস্ট ৯টা পর্যন্ত) দেশের অভ্যন্তরে এবং উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টা এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই সময়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম জেলার উক্ত নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে পারে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে নদীগুলোর পানি কমতে পারে ও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা ও পদ্মা নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল আছে; গঙ্গা নদীর পানি আগামী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, পরবর্তী ৩ দিন পানি কমতে পারে ও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। পদ্মা নদীর পানি আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এই সময়ে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে পরবর্তী ২ দিন পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এর বাইরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে—যা আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে ও সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। পরবর্তী ২ দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মহানন্দা, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও ঘাঘট নদীগুলো পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে করতোয়া নদীর পানি কমছে, যমুনেশ্বরি নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী ২ দিন এই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ওই সময়ে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেরে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে; তৃতীয় দিনে পানি কমতে পারে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, খলাই, খোয়াই ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টার বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, লুবাছড়া, ঝালুখালি, ভুগাই ও কংস নদীর পানি কমছে এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। মনু, ধলাই, খোয়াই ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি আরও ১ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী ২ দিন পানি কমতে পারে; অপরদিকে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, লুবাছড়া, ঝালুখালি, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি আগামী ২ দিন কমতে পারে ও পরবর্তী ১ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীসমূহে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজমান আছে, যা আগামী ২ দিন অব্যাহত থাকতে পারে; তৃতীয় দিন স্বাভাবিক জোয়ার বিরাজমান থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে আগামী তিন দিন পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এতে নতুন করে পদ্মা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।