৪ বছরের মধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি উষ্ণতার সীমা ছাড়াতে পারে বিশ্ব

বর্তমান হারে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে আগামী চার বছরের মধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। 
 
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘ইন্ডিকেটরস অব গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইজিসিসি)’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি আর্থ সিস্টেম সাইন্স ডেটা সাময়িকিতে প্রকাশিত হয়। ১৭টি দেশের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭০ জনের বেশি বিজ্ঞানীর অংশগ্রহণে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। 
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পৃথিবীর ‘এনার্জি ইমব্যালান্স’ বা শক্তির ভারসাম্যহীনতা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের গতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। 
 
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ রেকর্ড ৫৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্যে পৌঁছেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এর প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে অবশিষ্ট ‘কার্বন বাজেট’ ২০২৬ সালের শুরুতে ১৩০ বিলিয়ন টনে নেমে এসেছে। বর্তমান হারে নিঃসরণ চলতে থাকলে প্রায় তিন বছরের মধ্যেই এই সীমা শেষ হয়ে যেতে পারে। 
 
প্রতিবেদনটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও সতর্ক করেছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৯০১ সালের তুলনায় ২৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে, যা রেকর্ড। একই সঙ্গে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে মোট ৬৫ দিন মেরিন হিটওয়েভ দেখা গেছে, যা ১৯৯১ সালের তুলনায় তিন গুণের বেশি। 
 
বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত ও বড় পরিসরে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো না গেলে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এর প্রভাব মানুষের জীবন, জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর আরও গভীরভাবে পড়বে।