প্রকৃতিতে শরৎ নেমেছে ১৪ দিন হলো। এ ঋতুতে রোদ-বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমের পালাবদল থাকতে পারে। চলতি অক্টোবরে মাসের প্রথম ১০ দিনে কয়েকটি বিভাগে থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকলেও পরের ১০ দিনে আবহাওয়া তুলনামূলক পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশ থেকে পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে।
বুধবার (১ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ অক্টোবর দেশের অধিকাংশ এলাকায় দিনের বেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় প্রথম দুই দিন মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এ সময়ে চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। অন্যান্য এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ কম হতে পারে। বৃষ্টির বেশিরভাগই দুপুর থেকে রাত ১২টার মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা রোদ থাকতে পারে। রাজশাহী ও রংপুরে স্বাভাবিক অবস্থা এবং রাজশাহী ও সিলেটের কিছু এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিহীন সময়ে সারা দেশে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকায় ভোরে স্বাভাবিক কুয়াশাও পড়তে পারে। বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
১১ থেকে ২০ অক্টোবর দেশের আবহাওয়া মোটামুটি ভালো ও পরিষ্কার থাকতে পারে। খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামে মেঘ বেশি দেখা গেলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। অল্প কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে, যা প্রধানত চট্টগ্রাম অঞ্চলে সীমিত থাকবে। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর টানা বৃষ্টির আর সম্ভাবনা নেই।
তবে ১৯ ও ২০ অক্টোবর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে। এ সময়ে দিনে গড়ে ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা রোদ থাকতে পারে। বৃষ্টির বিরতিতে সামান্য ভ্যাপসা গরম এবং মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকায় ভোরের কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে ১৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ১৭ অক্টোবরের পর গভীর সমুদ্র কিছুটা উত্তাল হতে পারে। বৃষ্টি হলে মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কাও আছে।