সংকটের অজুহাতে বেহিসাবি চাল আমদানি করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনের বেশি হাজার হাজার টন চাল আমদানি করলে তাতে দাম অনেক নেমে যেতে পারে। এতে দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।’ সোমবার (২৮ আগস্ট) তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে চালের বাজারে ভারসাম্য রাখতে হবে। আমদানি বেশি মাত্রায় হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। চাল আমদানির অনুমতি ও চাল আমদানি শুল্ক কমানোর সুযোগ পেয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অবাধে চাল আমদানি করতে থাকলে একসময় তা হিতে বিপরীত হতে পারে। আমদানি করা চাল দিয়ে গুদাম ভরে রাখলে সামনে যখন আমন ধান উঠবে, তখন ওই চাল বা ধান কোথায় রাখব, এ বিষয়টিও ভাবতে হবে।’
গত ১ আগস্ট থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত কম্বোডিয়া সফরের সময় সে দেশের সরকারের সঙ্গে জি টু জি পদ্ধতিতে পাঁচ বছর মেয়াদে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশে বর্তমানে খাদ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর জানতে চান।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আলোচনায় অংশ নিয়ে জানতে চান বর্তমানে দেশে চালের মজুদ, সরবরাহ ও আমদানি পরিস্থিতি কেমন? জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, ‘এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ মিলে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। আরও প্রায় ১০ লাখ টন আমদানি করা চাল পাইপ লাইনে আছে। এছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমেও চাল আমদানি করা হচ্ছে।’
চাল আমদানি বিষয়ক খবর শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুযোগ পেয়ে হরদম চাল আমদানি করবেন না। এতে ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বন্যায় আমন নষ্ট হলেও সমস্যা নেই। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার বীজ লাগালে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন উৎপাদন সম্ভব। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণের আমন ধানের বীজ রয়েছে। ত্রাণ হিসেবে খাদ্য সামগ্রির সঙ্গে কৃষকদের আমন ধানের বীজও দেওয়া হচ্ছে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমন ধানের ফলন ভালো হবে আশা করছি। তখন সরকার আমন ধান ও চাল সংগ্রহ করবে। এখন যদি আমদানি করা চাল দিয়ে গুদাম ভর্তি করে রাখেন, তাহলে আমন ধান বা চাল রাখবেন কোথায়?’ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।







