ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব ব্যাংক পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে না, সে সব ব্যাংককে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। বুধবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সুর চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কোনও ব্যাংক এই নির্দেশনা না মানলে সেই ব্যাংককে শাখা খোলার অনুমতি দেবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউজও খুলতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।’
ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এর উদ্যোগে নেপাল, ঘানা ও নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী ‘জয়েন্ট লার্নিং ইভেন্ট অন সাসটেইন্যাবল ফিন্যান্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঘানা, নেপাল, নাইজেরিয়া ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন বিষয়ে একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে। আগামী ২০১৮ সাল থেকে এ নীতিমালা কার্যকর হবে। নীতিমালায় পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এসব কার্যক্রম সঠিক নিয়মে পরিচালনার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অর্জনে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিন দিনব্যাপী কর্মশালায় পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরা হবে এই কর্মশালায়।’
প্যারিস চুক্তি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (২০১৫-২০৩০) অর্জনের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের জন্য এ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন এস কে সুর চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক এর ডেপুটি গভর্নরের শিবরাজ শ্রেষ্ঠার নেতৃত্বে ৮ জন, ঘানার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ঘানা এর ডেপুটি গভর্নর জনসন পন্ডিত আসিমার নেতৃত্বে ৭ জন এবং নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব নাইজেরিয়ার বিশেষ উপদেষ্টা আশিয়া উসমান মাহমুদসহ ৩ জন পদস্থ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া আইএফসি (বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান) এর কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েনডি ওয়ার্নার এবং আইএফসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন। তিনি অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের প্রতিনিধিগণের সঙ্গে টেকসই অর্থায়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। তিনি তার বক্তব্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে টেকসই অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশসহ অংশগ্রহণকারী নেপাল, ঘানা এবং নাইজেরিয়া আইএফসি সহায়তাপুষ্ট সাসটেইন্যবল ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের সদস্য। সাসটেইন্যাবল ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের সদস্যভুক্ত দেশসমূহের কার্যরত আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে পরিবেশগত ও সামাজিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে আসছে।







