আমদানি-রফতানির পণ্য স্বল্প সময়ে কম খরচ ও ঝামেলাহীনভাবে খালাস করতে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা ‘অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও)’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অথরাইজড ইকোনোমিক অপারেটরদের বাণিজ্য সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (শুল্ক নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) খন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান, সদস্য (কাস্টমস নীতি) লুৎফর রহমান, ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান প্রমুখ।
নজিবুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সুবিধা চালু করা হচ্ছে। দেশের ব্যবসাখাতের ব্যাপ্তি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের কাস্টমকেও এই ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কাস্টমের আধুনিকায়নে আমাদের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বলা হয়, আমদানি-রফতানিসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অতীত রেকর্ড ভালো, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনা ও শুল্ক ফাঁকিসহ অন্য কোনও অভিযোগ নেই এবং আর্থিক ও কারিগরিভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, সেই সব ব্যবসায়ীদের অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর-এইও হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে প্রাথমিকভাবে দুটি ওষুধ কোম্পানির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর’ ঘোষণা করা হবে। তবে ২০১৯ সাল নাগাদ এটি পুরোদমে চালু হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন কাস্টম বিশেষজ্ঞ আবু হেনা ইউসুফ।
বিশেষ সুবিধা পাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বন্দর থেকে দ্রুত ও অপেক্ষাকৃত কম পরীক্ষায় পণ্য খালাসের সুবিধা পাবে। এছাড়া, এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংক গ্যারান্টির বাধ্যবাধকতায় নমনীয়তা ও বাকিতে কার্যক্রম সম্পন্ন করার মতো সুবিধাও পাবে।
যেসব প্রতিষ্ঠান নীতিমালা মেনে ব্যবসা করছে, কর ফাঁকি দিচ্ছে না, তারাই কেবল অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর তালিকায় থাকবে।
অনুষ্ঠানে নজিবুর রহমান বলেন, ‘কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান। ব্যবসায়ী ও কাস্টমসের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকলে ব্যবসায় গতি আসে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজস্ব সুরক্ষা ও দেশের অগ্রযাত্রায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি সব অংশীজনের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।’








