তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচকে এশিয়ায় নবম স্থানে বাংলাদেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ১০:৪৬

 

তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচকে এশিয়ায় নবম স্থানে বাংলাদেশ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের পথে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। সামগ্রিকভাবে, এফসিটিসির আর্টিক্যাল ৫ দশমিক ৩-এর নির্দেশনাবলী বাস্তবায়নে অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচকে এশিয়ার দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এই সূচকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর ব্রুনেই প্রথম, ফিলিপাইন দ্বিতীয়, থাইল্যান্ড তৃতীয়, কম্বোডিয়া চতুর্থ, মালয়েশিয়া পঞ্চম, লাউস পিডিআর ষষ্ঠ, মিয়ানমার সপ্তম, ভিয়েতনাম অষ্টম ও ইন্দোনেশিয়া দশম। বুধবার (০৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় প্রকাশিত ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০১৮’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে এই গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘গবেষণায় তথ্য-উপাত্ত ভবিষ্যতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগবে। এছাড়া, তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে আগামী বাজেটে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় রাজস্ব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গবেষণা ফলাফলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)-তে সরকারের ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার থাকাকে দায়ী করেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিএটিবির পরিচালনা পর্ষদের ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। এভাবেই তামাক কোম্পানি হস্তক্ষেপ চালানোর সুযোগ পায়।’

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানে গবেষণা ফল তুলে ধরতে গিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞাণ) কো অর্ডিনেটর হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের তামাকবিরোধী নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে তামাকের ব্যবহার ১৮ দশমিক ৫ শতংশ কমেছে। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে- গ্যাটস ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে তামাক ব্যবহারকারীর হার ৩৫ দশমিক ৩ শতংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ)। ২০০৯ সালে পরিচালিত প্রথম গ্যাটস জরিপে তামাক ব্যবহারকারীর এই হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতংশ (৪ কোটি ১৩ লাখ)। তবে, তামাক কোম্পানির বিদ্যমান হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন পিছিয়ে যেতে পারে।

গবেষণার সংক্ষিপ্ত ফলে জানা গেছে, তামাক কর সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছে। তামাক কোম্পানির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে বিড়ির ওপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় তামাক কোম্পানিকে নানাভাবে সুবিধা দেওয়ার  নজির গবেষণায় পাওয়া গেছে।  

 

/এসআই/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী
তরুণদের রক্ষায় তামাক পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান প্রজ্ঞার
তামাকপণ্যে কর বাড়াতে ২৬ সাংসদের ডিও লেটার
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম