বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৬ বিলিয়ন ডলার

গোলাম মওলা
০২ জুলাই ২০২০, ১৮:১৩আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ১৮:৫৫

ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় রফতানি আয় কমার পরও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ড করলো। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এই রেকর্ড হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ কোটি (৩৬.১৪) ডলার।’ তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ বাড়ার পেছনে বড় অবদান রেখেছেন প্রবাসীরা। তারা কোনও একক মাস হিসেবে সদ্য বিদায়ী জুন মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৮৩ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।’

এর আগে গত ২৩ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৫ বিলিয়ন ডলার উচ্চতায় ওঠে। গত ৩ জুন ছিল ৩৪ বিলিয়ন হয়। অর্থাৎ জুন মাসেই রিজার্ভে তিন বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। অবশ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৩ বিলিয়ন ডলার উচ্চতায় ওঠে ২০১৭ সালের ২১ জুন। সেদিন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩০১ কোটি ডলার। এরপর ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর, ২ নভেম্বর ও ২৮ ডিসেম্বর ৩৩ বিলিয়ন ডলারে ফেরে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল বাকি রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ১৬ বছর পর ২০১৭ সালে সেই রিজার্ভ গিয়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে ঠেকে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভে ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

এদিকে মহামারি করোনার মধ্যেও প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮ বিলিয়ন (এক হাজার ৮২০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাধীনতার পর কোনও অর্থবছরে এত রেমিট্যান্স আসেনি। এই পরিমাণ রেমিট্যান্সকে তারা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ বলছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের শুরুর দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। এই অঙ্ক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ের (জুলাই-জুন) চেয়েও ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ওই অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার (১৬.৪১ বিলিয়ন)।

এদিকে আগামীতে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে বড় পতনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। সংস্থাটি বলছে, করোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা অভিবাসী শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। এর বড় কোপ পড়ছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনার এই সময়ে প্রবাসীরা যত রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, এর আগে কখনও কোনও অর্থবছরের পুরো সময়েও এই পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স থেকে আয় করেছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি কোটি ১৬ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি মনে করা হয় বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সকে।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ভ্রমণে সুভেনির কেন কিনবেন?
ভ্রমণে সুভেনির কেন কিনবেন?
বাল্যবিবাহ: আইনে কী আছে শাস্তির ব্যবস্থা
বাল্যবিবাহ: আইনে কী আছে শাস্তির ব্যবস্থা
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা মোদির
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা মোদির
বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখলো যুক্তরাষ্ট্রের ৬ কোটি দর্শক, বিশ্বজুড়ে সংখ্যাটি কত
বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখলো যুক্তরাষ্ট্রের ৬ কোটি দর্শক, বিশ্বজুড়ে সংখ্যাটি কত
সর্বাধিক পঠিত
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
মুক্তি পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
মুক্তি পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা