প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল খান চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক ঝুঁকির চেয়ে এখন অপারেশন ও ডকুমেন্টেশন ঝুঁকি বড়। কোথা থেকে কোন দিক থেকে আঘাত আসে, তা কেউ জানে না। ব্যাংকটির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন,এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় প্রাইম ব্যাংক আক্রান্ত না হলেও ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের সমস্যা না হয়, সেজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ধরণের অজানা বিষয় মোকাবেলার জন্য একটি আবহ তৈরি করে আমরা আগে থেকেই কাজ করছি। আইটি ও ডিজিটাল প্লাটফর্মকে বেইজ ধরে প্রাইম ব্যাংক ভবিষ্যত ব্যাংকিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আহমেদ কামাল খান চৌধুরী।
তিনি বলেন,বছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে জুন মাস পর্যন্ত সরকারের ঋণ গ্রহণের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, ফেব্রুয়ারি মাসেই তা অতিক্রম করেছে। এরপর থেকে যে ঋণ নিচ্ছে তা অতিরিক্ত। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি দুই দিক থেকেই ঋণের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এ চাহিদার কারণে আপাতত আগামী ছয় মাস সুদ হার আর কমার কোনও সম্ভাবনা নেই।
আরও পড়ুন- রানা প্লাজা ধস: দুর্ঘটনার শিকার অর্ধেক শ্রমিক বেকার
তিনি জানান,বর্তমানে ব্যাংকের ১৪৫টি শাখা আছে, এটিএম আছে ১৭০টি এবং মানি একচেঞ্জ আছে ৩টি। প্রাইম ব্যাংকের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ১৯৯৫ সালে ব্যাংকটি মাত্র ১০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এ হিসাবে ২১ বছরে ব্যাংকটির মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ১৯ কোটি টাকার বেশি। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের শেষে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।আর বিনিয়োগ করা হয়েছে ১৫ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,প্রাইম ব্যাংকের বর্তমান খেলাপি ঋণ ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ,যা আগের বছরের চেয়ে একটু বেশি। গত দুই বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এটি বেড়েছে। তাছাড়া, খেলাপি ঋণ সংজ্ঞায়নে কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ কারণেও খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা কিন্তু বন্ধ হয় না। যেমন, আমরা রাইট অফকৃত ঋণ থেকেও গত বছর ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা আদায় করেছি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ১৭ এপ্রিলে যাত্রা শুরু করে প্রাইম ব্যাংক। আগামীকাল ২২ বছরে পা দিচ্ছে ব্যাংকটি।
/জিএম/ এপিএইচ/







