শ্রমিক ও কারখানার মালিকদের নিয়ে সরকার শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রম আইন সংশোধন করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, শ্রমিক ও কারাখার মালিকদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালো। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কারখানায় উৎপাদন কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে কমপ্লায়েন্স করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানা গুলোর বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটিসহ শ্রমিকদের জন্য কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘে কেনিয়ার প্রতিনিধি মিনিস্টার কান্সিলর, লেবার মিসেস এলিজাবেথ ফেইথ অনুকোর নেতৃত্বে আগত ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ সব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশে আর কোনও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। কারখানা ভবনের সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে। দেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের গ্রিন ইন্ডাস্টি গড়ে উঠছে। তিনি বলেন, ইপিজেডের শ্রমিকরা শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। বাইরের কারখানাগুলোর শ্রমিকদের চেয়েও তারা বেশি বেতন পাচ্ছেন। তারা ওয়ার্কার্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে মালিক পক্ষের সাথে বার্গেনিং করছেন। সেখানে কোনও শ্রমিকের অধিকার লংঘিত হচ্ছে না। ইউকে অ্যান্ড ইএস এইড-এর অর্থায়নে ডেমোক্রেটিক ইন্টারন্যাশনালের এক সার্ভে রিপোর্টে দেখা গেছে ইপিজেডের শ্রমিকরা কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য থেকে তাদের শ্রমিক নেতা নির্বাচন করতে আগ্রহী। কারখানার কাজের পরিবেশ এবং বেতন কাঠামোয় তারা সন্তুষ্ট। ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন, ইউএসএসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়তে পারেন:
রমজান উপলক্ষে পুনর্গঠন করা হচ্ছে সরকারি বাজার মনিটরিং কমিটি
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি কারখানার ৩০ ভাগ শ্রমিক একটি ইউনিয়ন গঠন করার জন্য লিখিত আবেদন করলে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের অনুমতি প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে শ্রমিকরা পূর্ণ অধিকার ভোগ করছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করেছে। কারখানা পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে দেশে ১০০টি স্পেশাল ইকনমিক জোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ৩০টির স্থান নির্বাচন করা হয়েছে এবং ১০টি উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে করে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসছেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে শ্রম আইনের বাস্তবায়ন অনেক ভালো। চীন তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। চীনে কোনও শ্রমিক ইউনিয়ন নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি কারখানার ৭ ভাগে এবং সরকারি কারখানার ৩৫ ভাগে শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে। ভিয়েতনামে শ্রমিক কারখানার নেতা থাকেন মন্ত্রী। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশিল। বাংলাদেশের সংবিধানে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা করা হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের সে অধিকার নিশ্চিত করেছে।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত সচিব মো. শওকত হোসেন ওয়ারেছিসহ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/এসআই/এমএনএইচ/







