নৌপথের উন্নয়নে ২৮শ’ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫৪, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৭, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

বিশ্বব্যাংকদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন ও নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য ২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কার্যালয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া এই অর্থ দিয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ এবং সংযুক্ত রুটের পাশাপাশি ৯০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন করা হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীমাতৃক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফান বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক, নৌ ও রেলপথের উন্নয়নের মাধ্যমে আন্ত-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারে। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের রয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের বড় সুযোগ। যা শক্তিশালী করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা বড় অবদান রাখবে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশিদের বিভিন্ন যোগাযোগ পথের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে কাজ করবে।’
‘বাংলাদেশ রিজিওনাল ওয়াটার ওয়ে ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট-১’ এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম-ঢাকা ও আশুগঞ্জের মধ্যকার ৯০০ কিলোমিটারের নদীপথ উন্নয়নে কাজ করা হবে। যা কার্গো ও যাত্রীর ভ্রমণ ব্যয় ও সময় কমানোর পাশাপাশি জাতীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেসহায়তা করবে।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পানগাঁওয়ে একটি কার্গো টার্মিনাল নির্মিত হবে। একই সঙ্গে আশুগঞ্জের কার্গো টার্মিনালের উন্নয়ন সাধনও করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশালের যাত্রী টার্মিনালেরও সংস্কার কাজ করা হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে চরাঞ্চলে নির্মিত হবে ১৪টি টার্মিনাল। এসব এলাকায় এখনও নৌপথই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। প্রকল্পের আওতায় টার্মিনালগুলোতে নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন (বিশেষ করে নারীদের) ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও ওয়েটিং রুমেরও ব্যবস্থা করা হবে।
প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত ও নেপাল ‘রিজিওনাল কানেক্টিভিটি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রাম’-এর একটি অংশ। প্রকল্পটি অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এর আরও একটি উদ্দেশ্য হলো- একে আর্থিক ও কার্যক্রমের (অপারেশনাল) দীর্ঘমেয়াদে স্থায়িত্ব দেওয়া।
প্রসঙ্গত, ২ হাজার ৮শ কোটি টাকার এ ঋণ ৩৮ বছর মেয়াদী। দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে এর গ্রেড পিরিয়ড ছয় বছর।
/জিএম/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ