ভোলার গ্যাস যাবে খুলনা-বরিশালে

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৮:৪৪, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৬, জানুয়ারি ২৮, ২০১৮

 

গ্যাসভোলার ভেদুরিয়া এলাকার নতুন অনুসন্ধান কূপের দুই স্তরে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি এখন নিশ্চিত। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে দেশের ২৭তম এই গ্যাসকূপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়। এই কূপ থেকে গ্যাস যাবে খুলনা ও বরিশালে। এই গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (বিসিএফ) রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভোলার শাহবাজপুর ও ভেদুরিয়া মিলিয়ে মজুদ দাঁড়ালো প্রায় দুই টিসিএফ।

ভোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা এখন বরিশালে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করছি। এরপর খুলনা পর্যন্ত পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে।’ কবে নাগাদ হতে পারে, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে পাইপ লাইন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি, শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নওশাদুল ইসলাম শনিবার বিকেলে বলেন, ‘আমাদের অন্যান্য কাজ শেষ করতে আট থেকে নয় মাস সময় লাগবে। এই সময়ে প্রসেস প্ল্যান্ট বসানো ছাড়াও গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে নতুন ক্ষেত্রটিকে যুক্ত করতে হবে। বিতরণ কোম্পানিকে বলা হবে, এরই মধ্যে বাজার অনুসন্ধান করতে। এখানে কোথায় কোথায় গ্যাস দেওয়া যায়, তা বিতরণ কোম্পানি নির্ধারণ করবে।  বিতরণ কোম্পানি চাইলেই আমরা গ্যাস দিতে পারবো।’

বাপেক্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কূপের মুখে আগুন প্রজ্জ্বলন ও  ডিএসটি (ড্রিল স্টিম স্টেট) পরীক্ষার মাধ্যমে এই কূপের গ্যাস চাপ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া গেছে। যে চাপ আছে, তাতে নিশ্চিতভাবে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। এতে ওই কূপের মুখে গ্যাসের চাপ ৩ হাজার ৭০০ পিএসআই এবং কূপের ভেতরে গ্যাসের চাপ ৪ হাজার ৮০০ পিএসআই পাওয়া গেছে। ৬০০ বিসিএফ-এর মতো মজুদ আছে। ভবিষ্যতে এখানে আরও কূপ খনন করা হলে মজুদ বাড়তে পারে।’ এই কূপ থেকে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত ৭ জানুয়ারি তিন হাজার ২৩৬ মিটার থেকে ৩ হাজার ২৪৫ মিটার গভীরতায় একটি নয় মিটারের গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়। এরপর গত ১০ জানুয়ারি কূপের তিন হাজার ২৬০ থেকে তিন হাজার ২৮৫ মিটার গভীরতায় ২৫ মিটারের আরেকটি গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়। শনিবার ডিএসটি করে গ্যাসের মজুদ ও অন্যান্য বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা পেয়েছে বাপেক্স।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর ভোলা উত্তর-১ নামের কূপটি খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। ওই সময় জানানো হয়, ভোলায় এক টিসিএফ গ্যাসের মজুদ পাওয়া যায়, তাহলে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তা খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। তবে ভোলার গ্যাস স্থলভাগে আনতে অন্তত ১০ কিলোমিটার সাবসি (পানিতে পাইপ লাইন) নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া বরিশালে ভোলার গ্যাস দিতে হলে অন্তত ৩৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ করতে হবে। আর খুলনা পর্যন্ত গ্যাস আনতে হলে দরকার হবে আরও ২০০ কিলোমিটার পাইপ লাইন। এরমধ্যে কয়েকটি নদী আছে।

২০০৯ সালের ১১ মে ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলন শুরু করে বাপেক্স। যা ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্র নামে পরিচিত। ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে ভোলা উত্তর গ্যাসক্ষেত্রটির দূরত্ব প্রায় ৩৭ কিলোমিটারে।

সরকার গ্যাস সংকট কাটাতে গত কয়েক বছরে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে উত্তোলন বাড়িয়ে প্রতিদিন ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) করেছে। কিন্তু সারা দেশে দৈনিক চাহিদা রয়েছে তিন হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি। গত নয় বছরে শ্রিকাইল ছাড়া আর কোনও মাঝারি মানের গ্যাসক্ষেত্রও পাওয়া যায়নি। বড় গ্যাসক্ষেত্রের আশা করেও সুনেত্রতে (সুনামগগঞ্জ-নেত্রকোনা জেলায়) কিছু পায়নি বাপেক্স। এ কারণে নতুন গ্যাসক্ষত্রটি আশা সঞ্চার করেছে।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ