বাজেটে সব রফতানি খাতকে সমান সুবিধার দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৪৪, এপ্রিল ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৬, এপ্রিল ০১, ২০১৯

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় দেশের রফতানি খাতের নেতারা পণ্য রফতানির মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে দেশের রফতানি খাত। অথচ এই খাতে কর বৈষম্য রয়েছে। রফতানি খাতের ব্যবসায়ীরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে অভিযোগ করে বলছেন, তারা তৈরি পোশাক খাতের করপোটের কর ১২ শতাংশ দিচ্ছেন, অথচ টেক্সটাইল খাতে ১৫ শতাংশ, প্লাস্টিক খাতে ৩৫ শতাংশ, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ খাতে ৩৫ শতাংশ এবং টেরিটাওয়াল খাতের রফতানিকারকদের ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়।’ এ কারণে আগামী বাজেটে সব রফতানি খাতকে সমান সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন রফতানি খাতের নেতারা।
সোমবার (১ এপ্রিল) এনবিআরের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের প্রধান রফতানি খাতের নেতারা এই দাবি জানান। এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, টেরিটাওয়াল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্লাস্টিক রফতানিকারক সমিতি, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ রফতানিকারক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সব রফতানিকারকরাই অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। সবাই বিদেশ থেকে ডলার আনছেন। এ কারণে রফতানি খাতে বৈষম্য থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, রফতানি খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি তৈরি করে দেওয়া উচিত যাতে প্রতিবছর বাজেটের আগে এনবিআরে এসে আমাদের ধরনা দিতে না লাগে। এছাড়া রফতানি খাতকে সম্পূর্ণরূপে ভ্যাটের আওতামুক্ত এবং বন্ডের অডিট অটোমেশন করার দাবি জানান তিনি।
টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, টেক্সটাইল খাত কর বৈষম্যের শিকার। করপোরেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ দিতে হচ্ছে। কিন্তু গার্মেন্টস খাত দিচ্ছে ১২ শতাংশ। আগামী বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের মতো করপোরেট ট্যাক্স নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, সুতার ওপর ভ্যাট আরোপ করা হলে প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বর্তমানে ট্যারিফ মূল্য আরোপিত আছে। কিন্তু ট্যারিফ প্রথা বিলুপ্ত করে তাঁতিদের সুতার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে প্রতি কেজি সুতার দাম সাড়ে ২৩ টাকা, সাড়ে ৭ শতাংশ আরোপ করলে ৩৫ টাকা ২৫ পয়সা এবং ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলে ৪৭ টাকা বাড়বে।
প্লাস্টিক রফতানিকারক সমিতির সভাপতি (বিপিজিএমইএ) জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার সব সময় বলে আসছে, রফতানি খাতকে বহুমুখী করা দরকার। কিন্তু কাজকর্মে বাকি খাতকে মূল্যায়ন করা হয় না। সব রফতানি খাতকে সমান সুবিধা দেওয়া উচিত। বর্তমানে প্লাস্টিক খাত ৩৫ শতাংশ করপোরেট কর দেয়। রিসাইকেল শিল্পে কর অবকাশ এবং শিল্পের যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল কাদের খান তৈরি পোশাক খাতের মতো করপোরেট ট্যাক্স ১২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রচ্ছন্ন রফতানি করলেও এক্সেসরিজ খাতকে ৩৫ শতাংশ করপোরেট কর দিতে হয়, এটা বৈষম্য। গত কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে প্রস্তাব দিয়েও সুফল পাওয়া যায়নি। করপোরেট ট্যাক্সের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এনবিআরকে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
টেরিটাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স আসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমএ) সভাপতি শাহাদাত হোসেন সোহেল বলেন, টেরিটাওয়াল খাতকে বাঁচাতে হলে তৈরি পোশাকের মতো করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনতে হবে। এছাড়া তিনি নগদ প্রণোদনার ওপর কর অব্যাহতি দেওয়ারও প্রস্তাব দেন।

 

 

/জিএম/ওআর/

লাইভ

টপ
X