ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিতে চায় ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা

গোলাম মওলা
১৩ জুন ২০১৯, ১৬:০৯আপডেট : ১৩ জুন ২০১৯, ১৬:৩৫

ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিতে চায় ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা

নতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবার ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা এবং ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। আয়-ব্যয়ের বিশাল পার্থক্যের কারণে এবার বাজেট ঘাটতিও অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান ছাড়া বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকার। আর ব্যাংক থেকে সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নিতে চায়। এছাড়া, জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ঋণ না নিয়ে কম সুদে বৈদেশিক ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারতো। তাতে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বেশি রাখা সম্ভব হতো। তারা বলছেন, সরকার যদি ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয় তাহলে বেসরকারি খাত চাহিদা অনুযায়ী ঋণ পাবে না।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। এখন যদি সরকার ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয় তাহলে বেসরকারি খাত চাপে পড়বে। সরকার ব্যাংক খাত থেকে আরও ঋণ নিলে ব্যাংকিং খাতে আরও তারল্য সংকট তৈরি হবে। তাতে নতুন করে ব্যাংখগুলো ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা হারাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

অনেকেই বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় আশানুরূপ না হওয়ায় সরকারের ঋণ বেড়েছে। গত অর্থবছর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ৮৮ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ২৬ মে মাসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২ হাজার ২০৮ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরের ২৬ মে পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকার নিয়েছে ৮ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৫ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণস্থিতির মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকে রয়েছে ৭২ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।

সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেয়। ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের মাধ্যমে ঋণ নেয়, যা স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসেবে বিবেচিত। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে সুদ হার রয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশের মতো। আর বন্ডের মাধ্যমে সরকার ২ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর ও ২০ বছর মেয়াদি ঋণ নেয়। বর্তমানে সরকারকে এসব ব্যাংকের সুদ হার বাবদ ৬ দশমিক ৩২ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়।

/এমএনএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী