গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুতের দাম নাও বাড়তে পারে

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১০:০০, জুলাই ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৭, জুলাই ০১, ২০১৯

গ্যাস  েবিদ্যুৎ

গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে বিদ্যুতের দাম নাও বাড়তে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সাধারণভাবে জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। সে কারণে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। তবে এবার জ্বালানির দাম বাড়লেও গড় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ার বদলে কমতে পারে বলে মনে করছে বিইআরসি। এজন্য দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করছে তারা। প্রসঙ্গত, সোমবার (১ জুলাই) থেকে গড়ে ৩২.৮ ভাগ গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কমিশন।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সমন্বয় করে নিলে আমাদের দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন নাও হতে পারে। এতে করে গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো বেশি চালানো যাবে। এজন্য তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কম হবে। ফলে উৎপাদন খরচ কম থাকবে। পিডিবি যদি মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয়, তাহলে কমিশন সেই আবেদন বিবেচনা করবে।’

সর্বশেষ হিসাব বলছে, দেশে মোট গ্রিড সংযুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ১৭ হাজার ৭৮৬ মেগাওয়াট। দেশে এখন ৫৭ দশমিক ৪৩ ভাগ বিদ্যুৎ গ্যাসে উৎপাদিত হয়। গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা ১০ হাজার ২১২ মেগাওয়াট। গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্রই বছরের পর বছর বন্ধ রাখতে হতো। এখন যে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে তার বেশির ভাগই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য এখন গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ প্রতি ইউনিট আড়াই টাকা থেকে চার টাকার মধ্যে।

প্রসঙ্গত, দেশের মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩২ দশমিক ১২ ভাগ তেলচালিত। তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট উৎপাদনক্ষমতা পাঁচ হাজার ৭১৪ মেগাওয়াট। দেশে দুই ধরনের তরল জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ডিজেলে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। ডিজেল দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে ২৭ টাকার মতো। এছাড়া ফার্নেস অয়েলে উৎপাদিত বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৯ টাকা ৬৪ পয়সা। 

পিডিবি জানায়, আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট তাদের দেওয়া হলে দেশের প্রায় সব গ্যাসচালিত কেন্দ্র চালানো সম্ভব। এই পরিমাণ গ্যাস পেলে অতিরিক্ত দুই হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সম্ভব। একটি ১০০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে সাধারণত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দরকার হয়।
পেট্রোবাংলার একজন কমকর্তা জানান, এখন গ্রিড সংযুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় এক হাজার ৩৭৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এলএনজি আমদানির আগে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। যদিও দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে দৈনিক ২ হাজার ২৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট।

 

/এমএএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ