পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইলিশ-সবজির মূল্য

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৩৬, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫০, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

নিত্যপণ্যের বাজারনতুন করে পেঁয়াজের মূল্য বাড়েনি। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের মতোই ৫০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা দরে। ডিমের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন লাল মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকায়। শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে, তবে দাম চড়া। ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও গত সপ্তাহের তুলনায় মূল্য বেড়েছে। এই সুযোগে বেড়েছে অন্যান্য মাছের মূল্য। সঙ্গে নতুন করে মূল্য বেড়েছে মুরগিরও। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতে মূল্য না কমলে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। ভারতে অতিবৃষ্টিতে পেঁয়াজ পচে গেছে। তাই সেখানে পেঁয়াজের আমদানি মূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ কমেছে। আগে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক পেঁয়াজ হিলিবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও এখন আসছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ। মাঝেমধ্যে সরবরাহ আরও কমে যায় বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

হিলিবন্দরের আমদানিকারক আবদুস সালাম তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সবসময় পেঁয়াজের ব্যবসাই করি। আমাদের ব্যবসা ভালো হয় তখন, যখন সরবরাহ ভালো থাকে। মৌসুমের শুরুতে ভালো ব্যবসা হলেও বর্তমানে মন্দা যাচ্ছে।’

আবদুস সালাম বলেন, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজের সরবরাহ পাচ্ছি কম। ভারতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে বন্যার পানিতে। তাই সরবরাহ কমেছে। আগে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক পেঁয়াজ এলেও এখন তা ৫০-৬০ ট্রাকে নেমেছে। এভাবে চলতে থাকলে পেঁয়াজের বাজার দর নিচে নামার সম্ভাবনা কম।’

রাজধানীর কাওরানবাজার ও কোনাপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে শীতের সবজি, শিম, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপির। ফুলকপি, বাঁধাকপির সাইজ ছোট, তবে মূল্য বেশি। বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি চিচিঙ্গা, ধুন্দল, পটল, বেগুনের মূল্য আগের মতোই আছে। গ্রীষ্মের সবজির উৎপাদন শেষের দিকে, অন্যদিকে শীতের সবজি পুরোপুরি আসেনি। এ কারণে মূল্য চড়া বলে জানিয়েছেন কাওরানবাজারের সবজি বিক্রেতা ইলিয়াস আলী। তিনি বলেন, ‘তবে, আস্তে আস্তে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে মূল্য কমবে।’

মাসখানেক ধরেই রাজধানীসহ দেশের মাছের বাজার দখল করে আছে মাছের রাজা ইলিশ। দেশের সব বাজারই এখন ইলিশে ভরপুর। অনেক বছরই সাধারণ মানুষ এক কেজি ওজনের ইলিশ কেনার দুঃসাহস করেনি। কিন্তু এ বছর প্রায়ই চোখে পড়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনছেন। বর্তমানে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এক কেজি সাইজের ইলিশ। তবে এক কেজির নিচের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মূল্যে। যেমন ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। এ কারণে ক্রেতারাও অনেকটা ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এরপরও কমছে না অন্য মাছের মূল্যে। আগের মতোই সব ধরনের মাছ চড়ামূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিন যত যাচ্ছে বাজারে ইলিশের সরবরাহ ততো বাড়ছে। তবে অন্য মাছের সরবরাহ কিছুটা কমছে বলে অন্য মাছের মূল্য সেভাবে কমছে না।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়ার দামে। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। এই সিজনে দেশি শিং মাছ, মাগুর মাছ, কৈ মাছ পাওয়া যায় না বিধায় বাজারে চাষের শিং বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা কেজি দরে। কাচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। শিমের পাশাপাশি চড়ামূল্যে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলা। আগের সপ্তাহের মতো ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। একই মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। তবে কিছুটা কমেছে করলা, পাকা টমেটো ও গাজরের দাম। প্রতিকেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা দরে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। করলার মূল্য কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে বরবটি, বেগুন, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিংগা, কাঁকরোল, ঢেঁড়সের। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। বেগুন ৫০-৬০ টাকা, চিচিংগা, ঝিঙা, ধুন্দল ৪০-৫০ টাকা, কাঁকরোল ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সবজির চড়ামূল্যের মধ্যে নতুন করে মূল্য বেড়েছে মুরগির। সাদা ব্রয়লার মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০-১২৫ টাকা। পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২২০-২৩০ টাকা। তবে লাল লেয়ার মুরগি আগের মতো ২০০ থেকে ২১০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

/এসআই/এমএনএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ