চালের ঘাটতি নেই, বাজার অস্থির কেন?

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ০৪:৩৮, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭, নভেম্বর ২১, ২০১৯

চালের দেশে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও এবার অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতির কারণে দাম বেড়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) দেশে মোট চাল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। বছরে দেশে চালের চাহিদা ২ কোটি ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। প্রতিজনের জন্য চাহিদা ৪৬৯ গ্রাম। সেই হিসাবে দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুত আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবহন ধর্মঘটের দোহাই দিয়ে চাল ব্যবসায়ীরা অনৈতিক মুনাফার দিকে ঝুঁকছে। তারা যেকোনও উপায়ে সুযোগ নিতে চায়। এ কারণে সরকার যখন পেঁয়াজ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে উঠেছে, ঠিক সেই সময়ে গুজব ছড়িয়ে লবণের বাজারকে অস্থির করার ষড়যন্ত্রে মেতেছিল এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে সেই পরিস্থিতি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সামলে উঠতে না উঠতেই আবার চালের বাজারকে অস্থির করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পরিবর্তনের দাবিতে শুরু হওয়া ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটকে পুঁজি বানিয়ে চালের বাজারকে অস্থির করে তুলতে চায়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্রাক না চলার কারণে চালের মোকাম হিসেবে খ্যাত নাটোর, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও কুষ্টিয়া থেকে চাল রাজধানীতে আসতে পারেনি। এতে রাজধানীর চালের বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এদিকে, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পরিবহন ধর্মঘট ১০ দিন চললেও চালের বাজারে প্রভাব পড়বে না। দেশের বাজারে চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কেউ কারসাজি না করলে দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই।

সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, দেশের প্রতিটি বাজারে যে পরিমাণ চাল আছে, সেখানে পরিবহন ধর্মঘট যদি ৮ থেকে ১০ দিনও চলে, তাতেও কোনও প্রভাব পড়বে না। কেউ যদি এমন পরিস্থিতিতে অনৈতিকভাবে চালের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, কেউ যেন কারসাজি করে চালের দাম না বাড়ায় তা দেখার জন্য স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যে মজুত আছে, সেখানে আমরা চাল আমদানি নয়, রফতানির কথা চিন্তা করছি। এমন পরিস্থিতিতে চালের দাম বাড়াটা অযৌক্তিক ও অনৈতিক।

রাজধানীর কোনাপাড়া বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী সমতা ট্রেডার্সের মালিক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিকেজি নাজিরশাইল চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করলেও গতকাল তা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। মিনিকেট ৫৬ টাকা ও ইরি জাতীয় আটাশ চাল ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা ৩-৪ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা কমে।

রাজধানীর বাবুবাজারের চাল ব্যবসায়ী মোকাররম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে যাবে। চাল আছে, তবে তা মোকামে। রাজধানীর বাজারে নয়। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাল রাজধানীতে আসে। কিন্তু গত দুদিন ধরে চাল আসতে পারছে না। এতে রাজধানীর দোকানগুলোতে চালের মজুত কমে গেছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।

এদিকে, বাংলাদেশ হাস্কিং রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, নওগাঁয় চালের কোনও ক্রেতা নেই। ধর্মঘটের কারণে ট্রাক চলাচল করছে না। চাল কিনে রাজধানীতে পাঠানোর কোনও উপায় নেই। তাই এখানে চালের দাম কমে গেছে। বাড়ানোর তো কোনও উপায় নেই। রাজধানীতে চালের দাম যদি বাড়ে তাহলে তার জন্য সেখানকার ব্যবসায়ীরা দায়ী। 

/আইএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ