দেশি পেঁয়াজের কেজি এখনও ২০০ টাকা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:১৮, নভেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৭, নভেম্বর ২২, ২০১৯

পেঁয়াজপাইকারি বাজারে প্রতিদিন কমছে দেশি-বিদেশি পেঁয়াজের দাম। কিন্তু রাজধানীর খুচরা বাজারে এর প্রভাব তেমন পড়ছে না। মনিটরিং না থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ও পাড়া মহল্লার দোকানগুলোতে বৃহস্পতিবারও (২১ নভেম্বর) দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর মিসর, তুরস্ক ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে। শান্তিনগর, যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজার ও কোনাপাড়া খুচরা বাজারে পেঁয়াজের এমন দাম লক্ষ করা গেছে। 

কাওরান বাজারের পাইকারি বাজারে বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৪০ টাকা ও মিশরের পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

কোনাপাড়া বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে, তবে বুধবারের দামেই বিক্রি হচ্ছে বৃহস্পতিবারও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম ক্রমেই কমবে।

জানতে চাইলে মাতুয়াইলের মুসলিম নগরের খুচরা ব্যবসায়ী সামছু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ আগে ২১০ টাকা কেজি দরে কিনে এনেছি। এখন চাহিদা কমে গেছে। কারণ সবজির দোকানে নতুন পাতাসহ পেঁয়াজ উঠে গেছে। দাম কম বলে সেগুলো কিনছেন ক্রেতারা। পুরনো পেঁয়াজ কিনছেন না। এমন অবস্থায় পচে যাওয়ার ভয়ে কেজিতে ১০ টাকা কমিয়ে বিক্রি করছি। তাও তো ঠিক মতো বিক্রি হচ্ছে না। বেশি ক্ষতিতে তো আর বিক্রি করতে পারি না।’

কোনাপাড়া বাজারের সমতা ট্রেডার্সের মালিক মোতালেব হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যে আরও কমবে পেঁয়াজের দাম। তবে আমরা এখন নতুন করে পেঁয়াজ আনছি না। মনে করেছিলাম, সংকট আরও বেশ কয়েকদিন চলবে, তাই বেশি করে এনে রেখেছিলাম। সেই পেঁয়াজ মজুত আছে। বিক্রি করতে পারছি না। এখন আবার নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। তাই কেনা দামের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী হাজী এমএ মাজেদ বলেন, ‘প্রতিদিনই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে। এখন দেশি পেঁয়াজ নেই, তারপরও যা আছে, তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাজেদ বলেন, ‘খুচরা বাজারে কী দরে বিক্রি হচ্ছে, তা আমাদের পক্ষে দেখভাল করা সম্ভব নয়। বিষয়টি সরকারের লোকজন দেখভাল করলে ভালো হয়।’

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শরিফা খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বাজার মনিটরিং করছেন। তারা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। ব্যবধান বেশি হলে জরিমানাও করছেন।

অপরদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিদিন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে চারটি টিম বাজার মনিটরিংয়ে যাচ্ছে। তারা এসব বিষয় মনিটর করছে।


 

/এসআই/আইএ/

লাইভ

টপ