উল্টোপথে শেয়ারবাজার

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২২:৫০, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৭, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯

শেয়ারবাজারদীর্ঘদিন ধরে সঠিক পথে নেই দেশের শেয়ারবাজার। গত কয়েক মাস ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে ক্রমাগতভাবে দরপতন চলছে। এই পতনের কবলে পড়ে ক্রেতা হারিয়েছে এই বাজার। আর ক্রেতা না থাকায় লেনদেন তলানিতে নেমে এসেছে। আগের তিন সপ্তাহের মতোই টানা চতুর্থ সপ্তাহ পতনের ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবক’টি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। চার সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক হারিয়েছে তিনশ পয়েন্টের ওপরে। একইসঙ্গে মোটা অঙ্কের মূলধন হারিয়েছে ডিএসই। সবক’টি সূচকের এমন পতনের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে।

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে। এতে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য কমেছে। ফলে, এই সপ্তাহে হাজার কোটি টাকারও বেশি মূলধন হারিয়েছে ডিএসই।

এ প্রসঙ্গে ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘যেভাবে পতন হচ্ছে, তাতে বলতে হয়, সঠিক পথে নেই দেশের শেয়ারবাজার। এই বাজারকে সঠিক পথে আনতে হবে। সে জন্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংককে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের এই বাজারের প্রতি আস্থা ফেরাতে হলে ভালো ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। গ্রামীণফোনের মতো কোম্পানি এখন এই বাজারের জন্য খুবই জরুরি।

মো. রকিবুর রহমান আরও বলেন, ‘গ্রামীণফোনের মতো ভালো শেয়ার বাজারে এলে তার সঙ্গে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীও বাজারে শেয়ার কিনবেন।’

এদিকে, মন্দা পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে ডিবিএ এবং বিএমবিএ। এ লক্ষ্যে দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে ১২ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ডিবিএ পরিচালক ও ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীকে।

তথ্য বলছে, গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৬৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ২৭৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেন কমেছে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বেড়েছে। মূল্য কমেছে ২২৯টির। আর ৩৭টির মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

বর্তমানে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ