বাণিজ্য মেলা শুরু, প্রস্তুত হয়নি অর্ধেকের বেশি স্টল

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১৭:৪৮, জানুয়ারি ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৬, জানুয়ারি ০১, ২০২০

বাণিজ্য মেলার প্রধান গেটবছরের প্রথম দিন শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ৩২ একর জমির ওপর আয়োজিত এবারের বাণিজ্য মেলায় মোট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৮৩টি। উদ্বোধনের পর মেলা ঘুরে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি স্টলই এখনও প্রস্তুত হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সময় কম পাওয়ায় স্টল তৈরি করতে দেরি হচ্ছে। তবে মেলার আয়োজকরা বলছেন, পর্যাপ্ত সময় দিয়েই স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, এবারের মেলায় কমানো হয়েছে স্টলের সংখ্যা। গত বছরের ৬৩০টি ছোট-বড় স্টল কমিয়ে এবার করা হয়েছে ৪৮৩টি। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ১২৮টি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ২৪৩টি। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে এবার বাণিজ্য মেলায় স্টলের সংখ্যা কমেছে। প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলসহ নতুন রূপে সাজানো হয়েছে এবারের বাণিজ্য মেলা।

স্মৃতিসৌধ ও পদ্মা সেতুর আদলে প্রধান গেট
এবারের মেলার প্রধান গেট তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে। ফটকের দুই পাশের দুই গেটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতীকের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে পদ্মা সেতুর প্রতীকী কাঠামো। দুই স্মৃতিসৌধকে যুক্ত করছে পদ্মা সেতু দিয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রাম আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত বছর ২৫০টি সাধারণ স্টল থাকলেও এবার মাত্র ৫০টি স্টল রাখা হয়েছে। ইপিবি জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, মরিশাস, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য মেলার ২৫তম এই আসরে অংশ নিচ্ছে।
স্টল প্রস্ততের কাজ এখনও শেষ হয়নি উদ্বোধনের পর মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বড় প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে কয়েকটি পুরোপুরি প্রস্তুত হলেও বেশিরভাগই তৈরি হয়নি। সাধারণ স্টলগুলোর মধ্যে মাত্র অল্প কয়েকটি স্টলে পণ্য সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে। বিদেশি পণ্যের প্যাভিলিয়নগুলোর একটিও চালু হয়নি। এসব প্যাভিলিয়ন রাখা হয়েছে মেলার দ্বিতীয় গেটের কাছে। প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোরিয়া হালাল মার্ট, থাই প্যাভিলিয়ন, টার্কিশ প্যাভিলিয়ন, কোরিয়ান প্যাভিলিয়ন। বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে গিয়ে কাউকেই দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্যাভিলিয়নগুলোর ভেতরে ছোট ছোট স্টল তৈরি করা হলেও সেখানে কোনও পণ্য দেখা যায়নি। এছাড়া অন্য কয়েকটি স্টলের কাজে নিয়োজিত কর্মচারীরা স্টল তৈরির দেরির কারণ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে নির্মাণাধীন একটি প্রসাধনী পণ্যের স্টলের কর্মকর্তা জানান, স্টল বরাদ্দ পেতে সময় লেগেছে। তাই প্রস্তুতি নিতে দেরি হয়েছে।
মেলার প্রথম দিন খুব অল্প সংখ্যক স্টল সাজিয়ে ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আবার অনেক বড় প্যাভিলিয়ন খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি ভিআইপি গিফট কর্নারে যেকোনো পণ্য ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ইমরান সাইয়াম বলেন, যখন টেন্ডার হয় তখনই পেয়েছি স্টল। আজ থেকেই মূলত মেলা শুরু। তাই ব্যবসার তাগিদে অতিরিক্ত লোক ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে স্টল রেডি করেছি। মেলায় আসা এক দর্শনার্থী বলেন, প্রতিবারই মেলায় আসি। প্রথম দিকে এ রকমই দেখি, মেলা পুরোপুরি চালু হতে ১০ দিন পার হয়ে যায়।
ইপিবির এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দফায় স্টল বরাদ্দ পেয়েও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী শেষ মুহূর্তে মেলায় না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া স্টলগুলোতে আবারও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেখানেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ায় পাঁচটি স্টল ফাঁকা রয়েছে।

মেলায় একটি স্টলবঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন
মেলায় চালু হয়েছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। প্যাভিলিয়নের দেয়ালে আছে ৭ মার্চের ভাষণের কয়েকটি লাইন। ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনকালের নানা তথ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং জাতির জনকের কারাবাসের প্রতীকী ছবি। এছাড়া প্যাভিলিয়নের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের ভাষণ এবং তার ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নটি নতুন আঙ্গিকে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপত্য অধিদফতরের নকশায় গণপূর্ত বিভাগ এই কাজটি করেছে।

শিশু পার্ক দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা
মেলায় আসা দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য এবার দু’টি ফোয়ারা, ইকোপার্ক, বিশ্রামাগার, মা ও শিশু কেন্দ্র, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও শিশু পার্ক রাখা হয়েছে মেলার ভেতরে। জনপ্রতি ১৫ টাকা করে টিকেট কিনে শিশু পার্কে খেলতে পারবে মেলায় আসা শিশুরা। তবে সেটি এখনও চালু হয়নি। এবারের মেলায় প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৪০ টাকা, শিশুদের জন্য ২০ টাকা। মাসব্যাপী এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
মেলার আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্টল তৈরির কাজ শেষ হবে খুব দ্রুত। বরাদ্দের একটি প্রক্রিয়া আছে। ধাপে ধাপে হয়েছে বরাদ্দ। যারা পরে পেয়েছে তারা হয়তো পরে এসেছে। প্রতিবারই এমন হয়। অল্প সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুত হয়ে যাবে।

মেলায় সাজানো স্টল

ছবি- সাজ্জাদ হোসেন

আরও পড়ুন: আজ শুরু মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা 

 

/এসও/ওআর/

লাইভ

টপ
X