বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প খরচের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আগ্রহ কম

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৪:৫৫, জানুয়ারি ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০০, জানুয়ারি ১০, ২০২০

বিদ্যুৎতরল জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কম। তারপরও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো আগ্রহ কম। গত তিন বছরে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। অপরদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে এসেছে মাত্র ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, গত বছর ফার্নেস অয়েল চালিত কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৩.৬২ টাকা। ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ছিল ২৭.২১ টাকা। আর নবায়নযোগ্য বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতে উৎপাদন খরচ ১১.৬৬ টাকা।

সরকারি এই হিসাবেই দেখা যায়, ফার্নেল ওয়েলের চেয়ে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ইউনিট প্রতি কম ছিল ১ টাকা ৯৬ পয়সা। আর ডিজেলের উৎপাদনের চেয়ে কম ছিল ১৫ টাকা ৫৫ পয়সা।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তিতে দেখা যায়, এর আগে ১৬-১৮ সেন্টে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি হয়েছিল। এখন যা ১০ সেন্টে নামিয়ে আনতে চেষ্টা করছে সরকার। ১০ সেন্ট অর্থাৎ ৮ টাকা ৫০ পয়সা নামিয়ে আনা সম্ভব। সেক্ষেত্রে আরও কমে সৌরবিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর চুক্তি হয় নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট ভিত্তিতে অর্থাৎ বিদ্যুৎ দিলেই কেবল তারা দাম পাবে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ দিক বা না দিক তাদের অর্থ পরিশোধ করতেই হবে। যাকে বলা হয় ক্যাপাসিটি পেমেন্ট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের খরচ কমাতে হলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ জ্বালানি, কয়লা বা এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। তেলের চেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে খরচ কম হয়। তাই দ্রুত সেদিকেই এগুতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘চলতি বছর আরও এক হাজার মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। সে তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এগুচ্ছে না। যারা এই উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা বলছেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চাইলেই করা যায়। কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানি করতে সময় লাগে। তাই পিছিয়ে যাচ্ছে কাজ। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে হলেও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আমরা বের হয়ে আসবো। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে।’

তিনি জানান, বড় কেন্দ্র না আসলেও সরকার বড় ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কাজে সাধারণ মানুষের দারুণ সাড়াও মিলেছে। নেট মিটারিং পদ্ধতির এই পন্থাকে জনপ্রিয় করতে পারলেও সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব।

ওই কর্মকর্তা বলেন,  ‘দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন আশানুরূপ বাড়ছে না। সরকার অনেকটা বেসরকারিখাতের ওপরই বেশি নির্ভর করছে। কিন্তু সরকারি উদ্যোগ এক্ষেত্রে অনেকটা সীমিত। সরকার চাইলে যতটা সহজে জমির সংস্থান করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। একইভাবে বেসরকারি উদ্যোক্তারা চাইলে সম্ভব নয়।’

সম্প্রতি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছি। এরমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে উল্লেখ করেন তিনি।

বড় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১০ সালের পর সরকার প্রথমে বেসরকারি অংশ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছিল। কিন্তু বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে বড় কেন্দ্রের নির্মাণ সম্ভব হবে না এমনটা বুঝতে পেরে সরকারি কোম্পানিকে যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রেই যৌথ উদ্যোগে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

/এসএনএস/এসটি/

লাইভ

টপ