২০২১ সালের মধ্যে ৫ লাখ স্মার্ট প্রি পেমেন্ট মিটার পাচ্ছে উত্তরাঞ্চলবাসী

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২২:২৬, জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৫, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

প্রি পেমেন্ট মিটার (ছবি: অনলাইন থেকে)

আগামী বছরের মধ্যে ৫ লাখ গ্রাহকের ঘরে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন করবে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। এজন্য বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মিটার কিনতে দুটি দেশি-বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার কথা রয়েছে সংস্থাটির।

নেসকো সূত্র জানিয়েছে, স্মার্ট প্রি পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ করা হবে তিন ধাপে। এরমধ্যে প্রথম ধাপে স্থাপন করা হবে এক লাখ ৪০ হাজার স্মার্ট মিটার। এরপর বাকি দুই ধাপে বাকি গ্রাহকদের কাছে স্মার্ট মিটার পৌঁছে দেওয়া হবে। ২০২১ সালের মধ্যেই সংস্থাটি এই কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছে।

এই স্মার্ট মিটার কেনার বিষয়ে বুধবার (১৪ জুলাই) বিদ্যুৎ ভবনে একটি চুক্তি সই হবে। চায়না কোম্পানি সেনজেন স্টার এবং বাংলাদেশের কোম্পানি অকুলিন টেক এর সঙ্গে এই চুক্তি করবে নেসকো।

তথ্য ঘেঁটে জানা গেছে, নেসকোর আওতায় বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়াতে প্রি পেমেন্ট মিটার ব্যবহার করছে গ্রাহকরা। গড়ে ২০ হাজার গ্রাহক এই মিটার ব্যবহার করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই প্রি পেমেন্ট মিটার ব্যবহার করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছে গ্রাহকরা। তাদের এসব সমস্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই স্মার্ট প্রি পেমেন্ট মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। দরকারে ঝামেলাপূর্ণ মিটারগুলো পাল্টে দেওয়া হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। নেসকোর কর্মকর্তাদের দাবি, এ মিটারের মাধ্যমে আগের চেয়ে অনেক সহজ পদ্ধতিতে বিদ্যুতের বিল দিতে পারবেন গ্রাহকরা। 

জানা গেছে, বর্তমানে নেসকো রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, নওগাঁ , জয়পুরহাট, রংপুর , লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর , ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। প্রায় ১৬ লাখ গ্রাহক আছে নেসকোর অধীনে।

নেসকো সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদন অনুযায়ী ২০২০ সাল অর্থাৎ এ বছরের মধ্যেই গ্রাহকের ঘরে মিটার সংযোগের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু, কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে প্রকল্পটি আরও একবছর বাড়ানোর আবেদন করেছে নেসকো। ফলে ২০২১ সালের মধ্যেই তারা কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছে।

সূত্রটি আরও জানায়, মোট ৪১৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং পবা, নাটোর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, বগুড়া সদর, শাহজানপুর এবং কাহালু, পাবনা সদর, দিনাজপুর সদর, ঠাকুরগাঁও সদর, পঞ্চগড় সদর, নীলফামারী সদর এবং সৈয়দপুর সদর উপজেলা এই স্মার্ট মিটারের আওতায় আসবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক জাকির হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গ্রাহকরা নানা ধরনের অভিযোগ করতেই পারে। আমরা সেসব সমাধানের চেষ্টা করছি। স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে সেসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে নেসকো নানা কাজ করছে। এই মিটার স্থাপনের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমে আসবে। গ্রাহকরা সহজেই অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

জানা যায়, প্রকল্পটি গ্রহণের আগে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। তার ভিত্তিতে নেসকোর আওতাধীন ৫০টি বিতরণ বিভাগের সিস্টেম লসের মাত্রা বিবেচনা করে এই প্রকল্পটিতে ১৬টি বিভাগের আওতায় ৫ লাখ গ্রাহকের জন্য স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

 

/এসএনএস/টিএন/

লাইভ

টপ