উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা করবে ‘বিসিক শিল্প পার্ক’

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২১:০৪, জানুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১০, জানুয়ারি ২১, ২০২০




সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্ক (ছবি সংগৃহীত)দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সরকার ‘বিসিক শিল্প পার্ক’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিল্পায়নের পথ সুগম হবে এবং শিল্প পার্কটি দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পূর্ব মোহনপুর, বনবাড়ীয়া, বেলটিয়া, মোরগ্রাম মৌজায় স্থাপিত শিল্প পার্ক স্থাপনে জমির প্রয়োজন হবে ৪০০ একর। ‘বিসিক শিল্প পার্ক, সিরাজগঞ্জ (৩য় সংশোধিত)’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই শিল্প পার্কে ৮২৯টি শিল্প প্লটে তৈরি হবে ৫৭০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এতে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পের অনুকূলে ৯৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ঘন মিটার মাটি ভরাট করা হবে। ডাইক বাঁধ নির্মাণ করা হবে, থাকবে বনায়নও। প্রকল্পের আওতায় ৬তলা ভিত্তিসহ চার তলা অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এর বাইরেও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মসূচি রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, পিডব্লিউডি রেট সিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী মাটি ভরাট কাজ ছাড়া অন্যান্য ব্যয় প্রাক্কলন করা, প্রকল্প বাস্তবায়নে অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি নতুন অঙ্গ (শিল্পনগরীর বাউন্ডারি ওয়াল, ডাম্পিং ইয়ার্ড) অন্তর্ভুক্তকরণ, প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক কোড অনুযায়ী আরডিপিপি প্রণয়ন করতেই প্রকল্পটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। সশোধনীসহ একনেক প্রকল্পটির অনুমোদন করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিসিকের অন্যতম কার্যক্রম শিল্পনগরী স্থাপন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে সহায়তা করতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অংশে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) অবকাঠামো সুবিধাসহ বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক শিল্প স্থাপনে প্রকল্পটির বিষয়ে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ প্রকল্প প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানান, প্রকল্পটি বাস্তায়িত হলে দেশের উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নে বিপ্লব ঘটবে। এতে সেখানকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে, যা জিডিপিতে অবদান রাখবে।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ