বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা বিডিএফ বৈঠক শুরু হচ্ছে বুধবার

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২১:২০, জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৯, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

অর্থ মন্ত্রণালয়

৮ লক্ষ্য বাস্তবায়ন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টকে সামনে রেখে আয়োজিত বাংলাদেশ ডেভেলাপমেন্ট ফোরামের বৈঠক শুরু হচ্ছে বুধবার (২৯ জানুয়ারি)। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক শেষ হবে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি)। এবারের বিডিএফ বৈঠকটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে উৎসর্গ করা হয়েছে। বিডিএফ বৈঠকের মূল স্লোগান ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই কার্যকর অংশীদারিত্ব’ ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানিয়েছে, ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ছাড়াও যে আটটি লক্ষ নিয়ে এবারের বিডিএফ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে সেই ৮টি লক্ষ্য হচ্ছে- বাণিজ্য সুবিধায় বেসরকারীখাতকে অন্তর্ভূক্তকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অংশীদারিত্ব ও এর অর্থায়ন, একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বার্থে উদ্ভাবনী অর্থায়ন,  গ্রামাঞ্চলের রূপান্তর: সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি,  স্বাস্থ্যসেবা: ইনক্লুসিভ ডেলিভারি অপশন, টেকসই প্রবৃদ্ধির স্বার্থে জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই শহর: দুর্গতদের জন্য পরিষেবা ও সুরক্ষা এবং সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা: চতুর্থ প্রযুক্তি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি।

ইআরডি সচিব ও লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপের কো চেয়ারম্যান মনোয়ার আহমেদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফোরামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ ছাড়াও জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, জুনিচি ইয়ামাদা, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট, হার্টঊইগ শেফার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট শিক্সিন চেনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই ফোরামে অংশ নেবেন।

জিডিপির ভিত্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে এই অবস্থান ৩২তম। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি এবারের বিডিএফ বৈঠকে তুলে ধরা হতে পারে। 

এ বিষয়ে ইআরডির উপসচিব এবং এবারের বিডিএফ’র মিডিয়া উপকমিটির সদস্য সচিব শারকে চামান খান লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ডেভেলাপমেন্ট ফোরামে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার একটি ক্ষেত্র  তৈরি হবে। একই সঙ্গে আসন্ন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার রূপরেখা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তথা বিভিন্ন আর্থসামাজিক অগ্রাধিকার খাতে সরকারের মধ্যমমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে তুলে ধরা হবে।  তিনি জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী এই ফোরাম শেষে আলোচিত বিষয়বস্তুগুলোর ওপর আলোচনা ও গৃহীত সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে একটি বিডিএফ কমুনিক ঘোষণা করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের বিষয়টি আলোচিত হবে। বাংলাদেশে দারিদ্রের হার কমিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় স্থান পাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। যেখানে ১৯৯১ সালে ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশে অতি দারিদ্র্যের হারও ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দারিদ্র্র্যের হার ১৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া পরিকল্পনার কথাও উপস্থাপন করা হবে বৈঠকে। 

জানা গেছে, বিডিএফ-২০২০ বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাও অংশ নেবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, এখনকার বিডিএফ বৈঠকগুলোর মূল লক্ষ্য অতীতের মতো শুধুই সহায়তা পাওয়া নয়, এখনকার এ বৈঠকগুলোতে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা আগ্রহের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সফলতা অর্জনের গল্প শুনতে আসে। তারা বাংলাদেশের এই সফলতার অংশীদার হতে চায়।  তাই বৈঠকে সরকারের সফলতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।

/এমআর/

লাইভ

টপ