চীনে এলসি খোলা বন্ধ!

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২২:০৯, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৫, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০





করোনা ভাইরাস

চীনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। দেশটির অধিকাংশ অফিস ও ব্যাংক বন্ধ। এরইমধ্যে দেশটির পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। চীন থেকে আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন রফতানিকারকেরা। আমদানিকারকরাও আছে মহা বিপদে। কারণ, দেশটিতে এখন এলসি খোলা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে চায়না বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাবের সভাপতি ও  চীনের পণ্য আমদানিকারক আবদুল মোমেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চীনে এখন অধিকাংশ অফিস ও ব্যাংক বন্ধ। ফলে আমরা চেষ্টা করেও চীনে কোনও এলসি খুলতে পারছি না। এই সপ্তাহে আমার ৫টি এলসি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ব্যাংক খুলতে পারেনি। রফতানিও বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এখন এমন পরিস্থিতি যে অন্য কোনও দেশেও এলসি খোলা যাচ্ছে না। কারণ, বিকল্প কোনও দেশই আমরা পাচ্ছি না। আমরা চীন বাদ দিয়ে ভারতের দিকে যাবো, সেই ভারতও চীনের ওপর নির্ভরশীল। তাইওয়ান, হংকং, সিঙ্গাপুরে পণ্যের জন্য অর্ডার দিলেও কাজ হচ্ছে না। কারণ, তাইওয়ান, হংকং, সিঙ্গাপুরও চীনের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, নতুন এলসি তো দূরের কথা, দুই মাস আগের আমদানি করা পণ্যও মানুষ কিনতে চাইছে না। তিনি উল্লেখ করেন, আগে শুধু চীনের উহান শহরে করোনা ছিল, এখন তিনটি প্রদেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

আবদুল মোমেন বলেন, চীন সরকার করোনা ভাইরাসের কারণে ছুটির সময় বাড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে ব্যাংক ও অফিস খোলার কথা ছিল, কিন্তু ছুটি বাড়ানো হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চীন থেকে সবচেয়ে বেশি কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, তৈরি পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে যা মোট আমদানির ২৬ শতাংশেরও বেশি।
এদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাট সুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের রফানিকারকেরা। বিশেষ করে যারা ওভেন পোশাক রফতানি করেন। কারণ, ওভেন পোশাকের ৬০-৬৫ শতাংশ কাপড় আমদানি হয়, যার একটি বড় অংশ চীন থেকে আসে।
করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো এখন চীনে কোনও এলসি খুলছে না এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধানও। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকার, ব্যাংক ও উদ্যোক্তা আমরা সবাই চিন্তিত। এরই মধ্যে শিপমেন্ট শ্লথ হয়েছে। তিনি বলেন, চীনে নতুন করে আমরা এলসি করছি না তা আমি বলবো না। তবে আমদানিকারকরা চীনের বিকল্প অন্য কোথাও এলসি খোলার কথা ভাবছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এলসি খোলার ক্ষেত্রে প্রথম দায়িত্ব আসে আমদানিকারকদের কাছ থেকে। আমদানিকারকরা যদি ব্যাংকে এলসি খুলতে আসে এবং চীন যদি নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে চায় তাহলে আমরা এলসি খুলবো।
জানা গেছে, বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। তার জন্য কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ১ হাজার ২১৭ কোটি মার্কিন ডলারের। আমদানি হওয়া এই কাঁচামালের বড় অংশ চীন থেকে আসছে বলে জানান পোশাকশিল্পের মালিকেরা। ব্যবসায়ীদের অনেকে বলছেন, চীনে সময়মতো কাপড় না এলে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার কারণে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। আমদানিকারকরা  চীনের বিকল্প চিন্তা করলেও সমাধান পেতে সময় লেগে যাবে।

তিনি বলেন, চীনের বিকল্প এলসি রাতারাতি সম্ভব নয়। কারণ, নতুন দেশে এলসি করতে গেলে মূল্য নির্ধারণে একটা সমস্যা দেখা দেবে। আরেকটা সমস্যা হলো পণ্য আসতে সময় বেশি লাগবে। তিনি মনে করেন, এরইমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কারণ, আগে প্রতিদিন দলে দলে মানুষ চীন যেত, এখন কেউ চায় না। ফ্লাইট থাকলেও মানুষ যাচ্ছে না। তিনি বলেন, চীনের এই করোনা যদি দীর্ঘ সময় থাকে তাহলে বাংলাদেশের বড় বড় প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ