ভালো আইপিও না আসায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২৩:২৬, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৭, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০

 

ডিএসই

দেশের শেয়ারবাজারে ভালো মানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আসছে না। সুশাসনও নেই। যে কারণে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে না। শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের যে অনাগ্রহ তার প্রমাণ মেলে বাজারের দরপতন দেখেই। গত দুই সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে। এতে এক সপ্তাহে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার ওপরে মূলধন হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উদ্যোগ বাজারে গতি আনলেও মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখনও বাজারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে না। বাজার চাঙা করতে আর্থিক সার্পোট দরকার ছিল, সেটিও হয়নি। আইপিওর গুণগত মান এবং সংস্কারের উদ্যোগ এখনও ঠিক হয়নি। বাজারে সুশাসন এখনও আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, বাজার ভালো করতে হলে ভালো মানের আইপিও দরকার। কিন্তু ভালো মানের আইপিও নেই। ভালো আর্থিক প্রতিবেদনই ভালো আইপিওর নিশ্চয়তা দিতে পারে। সে জন্য বাজারে ভালো আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আনতে  সংস্কার ও সুশাসন জরুরি।

প্রসঙ্গত, বিনিয়োগ ইচ্ছুক সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করার নামই আইপিও। আইপিওকে প্রাইমারি মার্কেটও বলা হয়।

তথ্য বলছে, দুই সপ্তাহ আগে বড় ধরনের উত্থান দেখে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু এরপরেই ঘটে ছন্দপতন। দুই সপ্তাহের টানা পতনে আবারও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৪৪৫ কোটি টাকা।

এদিকে পতনের বাজারে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমে গেছে। ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৪৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪৪৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৬৮ লাখ টাকা । এছাড়া গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২২২ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এই হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

তবে গত সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার চেয়ে বেড়েছে বেশি। সপ্তাহজুড়ে বাজারটিতে ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫২টির। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টির।

এমন পরিস্থিতিতেও গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমেছে।প্রধান মূল্যসূচকের সঙ্গে পতন হয়েছে ডিএসইর বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকেরও। গত সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছে ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। ডিএসইর অপর মূল্যসূচক ডিএসই শরিয়াহ্ কমেছে দশমিক ৮৮ পয়েন্ট।

/এমআর/

লাইভ

টপ