ওজনে কম দিচ্ছে পেট্রোল পাম্প, প্রতিকারের উদ্যোগ নেই

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২৩:০২, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০১, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

২৮ অক্টোবর পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটের ডাকপেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে সীমিত অভিযানে গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে জমা দেওয়া একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ডিসেম্বরে ৪৬টি পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়ে ৩৩টিতেই অনিয়মের প্রমাণ  মেলেছে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর পরিচালিত অভিযানে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিটার টেম্পারিং করে বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্প ওজনে কম দেয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি সবাই জানলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সামান্য জরিমানা দিয়েই আবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলো।
একটি তেল বিপণন কোম্পানির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সরকারি ও আর্মি ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের কিছু পেট্রোল পাম্প রয়েছে, এগুলোতে সঠিক পরিমাপে তেল দেওয়া হয়। এখান থেকে যারা তেল কেনেন, তাদের ওজন এবং তেলের মান নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। কিন্তু এর বাইরে সারাদেশে যে পেট্রোলপাম্প রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই পরিমানে কম দেয়। কী পরিমাণ কম দেয়, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি পাঁচ লিটারে অন্তত ২০০ মিলি লিটার কম দেয়। নিয়মিত যাদের দেখার কথা, তারাও বিষয়টি দেখছেন না।’
কেবল গত ডিসেম্বর মাসের হিসেবে দেখা যায়, ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধ ও তেল সরবরাহ সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত দেশে মোট ৪৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলো এই অভিযান পরিচালনা করে। এরমধ্যে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ২০টি, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৯টি এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির ২০টি।

এদিকে, ওজন কম দেওয়ার কারণে পদ্মার ৯টি, মেঘনার ৭টি এবং যমুনার ১১টি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে। ক্যালিব্রেশন (বর্তমানে পণ্যের ওজন ও পরিমাপ করা) মেয়াদ উত্তীর্ণের জন্য পদ্মার ২টি এবং যমুনার ৩টি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়। ডিসপেন্সিং ইউনিটে ত্রুটি থাকায় পদ্মার ১টি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়। তবে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় পদ্মার ৫টি, মেঘনার ২টি এবং যমুনার ৬টি ফিলিং স্টেশনে কোনও অনিয়ম পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, পেট্রোল পাম্পে যেসব পরিমাপক রয়েছে, এর মধ্যে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকায় কিছু মেশিন পাওয়া যায়। অন্যদিকে আমেরিকা থেকে প্রতিটি ১০ লাখ টাকায় যেসব মেশিন আমদানি করা হয়, সেগুলো টেম্পারিং করা যায় না। আবার দামি এই মেশিন ব্যবহারে পেট্রোলপাম্প মালিকদের বাধ্যও করতে পারে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কারণ, দুই ধরনের মেশিনই একই কাজ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হক বলেন, ‘ওজনে কম দেওয়া এবং ভেজাল তেলের বিষয়ে নানা অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে সরকারের সঙ্গে আমরা বহুবার সভা করেছি। এসব সভায় আলোচনা হয় ঠিকই কিন্তু শেষপর্যন্ত কোনও সমাধান হয় না। আমরা সরকারের কাছে একটি মনিটরিং টিম করার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম।কিন্তু সেই প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে একবার উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটি করা হয়েছিল। এইসব কাজের সঙ্গে কারা জড়িত, তা আমাদের চেয়ে সরকারি লোকজন ভালো জানেন। তাই আমরা চাই, আমাদের সঙ্গে নিয়েই মনিটরিং করা হোক। কিন্তু সেই কমিটি কোনও কাজ করেনি। ওই সময়ের জ্বালানিমন্ত্রী ছিলেন বিগ্রেডিয়ার এনামুল হক। তিনি কমিটি করে দিলেও সেই কমিটি কাজ করেনি। তারা যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে অভিযান চালায়। এতে দুই পক্ষেরই নানা অভিযোগ থেকেই যায়।’

নাজমুল হক বলেন, ‘অভিযানের মাধ্যমে অনেকের জরিমানা হয়, অনেকের ডিলারশিপ সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বিষয়টির কোনও সমাধান আসলেই হয়নি।’

প্রসঙ্গত, দেশের তেল বিপণন কোম্পানির কাছ থেকে পেট্রোল পাম্প মালিকরা তেল উত্তোলন করে তা বিক্রি করেন। দেশে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি রয়েছে। দেশে চার হাজার ২০০টির মতো পেট্রোল পাম্প রয়েছে।  

 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ
X