নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রকল্প বাড়লেও উৎপাদন বাড়েনি

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১০:০০, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৩, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প (ছবি: সংগৃহীত)

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে একের পর এক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের নির্মাণ কাজে আগের মতোই স্থবিরতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগ থেকে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তাতে বেসরকারিখাতের ব্যর্থতার চিত্রই উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেসরকারিখাতে ২৫টি সৌর বিদ্যুতের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট এক হাজার ৫২০ দশমিক ৭৭ মেগাওয়াট  বিদ্যুতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত উৎপাদনে এসেছে মাত্র ৩৩ মেগাওয়াট। বাকি কেন্দ্রগুলোর নির্মাণে খুব একটা অগ্রগতি নেই।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে  জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ পাওয়া সহজ বিবেচনায় দেশীয় উদ্যোক্তারা বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। শুরুতে কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমির সংস্থান আছে কিনা, সেভাবে দেখা হয়নি। এতে করে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সই হওয়ার পর দেখা গেছে— জমি এবং বিনিয়োগের সংস্থান হচ্ছে না। এতে বেশিরভাগ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ ঝুলে গেছে।

২৫টি প্রকল্পের মধ্যে কক্সবাজার ২০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে উৎপাদনে এসেছে। এটি ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদনে আসার কথা ছিল। পঞ্চগড়ে ৮ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ২০১৮ সালে চুক্তি সই হয়। ২০১৯ সালে এটি উৎপাদনে এসেছে। সিলেটের গোয়াইন ঘাট ৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ২০১৮ সালে চুক্তি সই হলেও সেটি গতবছর উৎপাদনে এসেছে।

বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীতে ৫০ মেগাওয়াট সোলার ২০১৬ সালে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও এখন বলা হচ্ছে, তাদের আরও দুই বছর সময় লাগবে। তারা দুই বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। একই অবস্থা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ৩২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির। এই কেন্দ্রটির চুক্তি হয় হয় ২০১৬ সালে, উৎপাদনে আসার কথা ২০১৮ সালে, কিন্তু এখন আরও দুইবছর সময় বাড়ানো হয়েছে। ‍

টেকনাফের ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির চুক্তি সই হয়েছে ২০১৭ সালে। এটির উৎপাদনে আসার কথা ছিল ২০১৮ সালে। কিন্তু একটি মামলার কারণে বর্তমানে কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির অবস্থাও একই। ২০১৭ সালে চুক্তি সই হয়, ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসার কথা। এখনও আসেনি। গাইবান্ধা ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির চুক্তি হয় ২০১৭ সালে। ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসার কথা। এটি এখনও উৎপাদনে আসেনি। লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ৫ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পটির চুক্তি হয়েছে ২০১৮ সালে। ওই বছরেই উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও এখনঅব্দি সেটিরও কোনও খবর নেই। মানিকগঞ্জ ৩৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রের চুক্তি হয় ২০১৮ সালে।  এটিরও উৎপাদনে আসার কোনও খবর নেই।

এদিকে নতুন চুক্তিগুলোর মধ্যে বড় দূর্গাপুর, মংলা ও বাগেরহাট মিলিয়ে ১০০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক প্রকল্পের চুক্তি হয় ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে পঞ্চগড় ৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট) বা প্রাথমিক সম্মতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। এটি ভেটিং প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানা যায়। বাগেরহাটে ১০০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক প্রকল্পের এলওআই ইস্যু হয়েছে ২০১৭ সালে। ভেটিং চলছে এখন। একইভাবে পাবনা ১০০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক, পঞ্চগড় ৫০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ২০০ মেগাওয়াট, মৌলভীবাজার ১০ মেগাওয়াট, পঞ্চগড় ২০ মেগাওয়াট, জামালপুর ১০০ মেগাওয়াট, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলাধীন অমরখান ও শালডাঙ্গা মৌজায় ৪৭ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ৫০ মেগাওয়াট প্রকল্প, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলায় ৩.৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও এলওআই ইস্যু হয়েছে। এরমধ্যে টাঙ্গাইল পোড়াবাড়ি ৫০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক নির্মাণে প্রথমে এলওআই ইস্যু করা হলে পরে তা বাতিল করা হয়।

এর বাইরে বিদ্যুতের দাম নিয়ে আলোচনা চলছে আরও দুইটি প্রকল্পের বিষয়ে। একটি হলো, নারায়ণগঞ্জের বারদিতে ২৫ মেগাওয়াট সোলার পার্ক। অন্যটি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প।

 

/এমআর/এপিএইচ/

লাইভ

টপ