বন্দরে পণ্য আসার তিন দিনের মধ্যে ডকুমেন্ট জমা না দিলে জরিমানা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০৬, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১২, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

বন্দর আসা পণ্য নিয়ে সেমিনারে বক্তারা

বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যে বিল অব এন্ট্রিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা না দিলে জরিমানার মুখে পড়বেন আমদানিকারক। এ সংক্রান্ত একটি বিধান কাস্টমস আইনে সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এটি কার্যকর করা গেলে আমদানি পণ্য বন্দর থেকে ছাড় করার ক্ষেত্রে গতি আসবে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), এনবিআর ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) যৌথ আয়োজনে রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত ইআরএফ কার্যালয়ে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস: ট্রেডিং অ্যাক্রোস বর্ডারস’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান এনবিআর সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর, ঢাকা কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।

কর্মশালায় এনবিআর সদস্য বলেন, বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের এখনও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রত্যাশিত স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে না বলে মনে করা হচ্ছে।

আমদানি-রফতানি পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া বিশেষত শুল্কায়নে সময় বেশি লাগছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছেন- এর ব্যাখ্যায় ঢাকা আইসিডির কমিশনার মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, সময়মতো বিল অব এন্ট্রি পাওয়া গেলে একদিনের মধ্যে পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে শিপিং এজেন্ট, ব্যাংকিং ডকুমেন্ট, বন্দর কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের নানা প্রক্রিয়ার কারণে শুল্কায়নে দেরি হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্তৃপক্ষের শুল্কহার পছন্দ না হলে, সময়মতো শুল্ককরের টাকা পরিশোধে অনিচ্ছুক হলে কিংবা পছন্দের ডিউটি অফিসারের জন্য অপেক্ষা করে। আবার রাসায়নিক পরীক্ষার জন্যও দেরি হয়। কেবল এককভাবে শুল্ক কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

এ প্রসঙ্গে খন্দকার আমিনুর রহমান বলেন, বন্দরে পণ্য আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিল না করলে জরিমানা আরোপের বিধান আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার সূচকে ভারত অনেক এগিয়েছে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানেরও বড়ো অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের আট ধাপ অগ্রগতি হলেও সন্তুষ্ট নই। টাকা নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বসে আছেন। কিন্তু, এসব সূচকের তথ্য বিনিয়োগকারীদের ভাবায়।

তিনি বলেন, আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ আর সহজে ব্যবসা করার সূচকে অবস্থান ১৬৮তম। ফলে সন্তুষ্টি খুঁজে লাভ নেই।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাঁচামালের প্রাপ্যতা ঘোষণার (ইউডি) ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির হাতে গিয়েছে। কিন্তু ইউডি সংশোধনের কাজ এখন পর্যন্ত অনলাইন করেনি। ফলে কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান ১৭০ বার পর্যন্ত ইউডি সংশোধন করছে। এতবার কী পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে? অনলাইন না হওয়ায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ এটি তাৎক্ষণিক দেখতে পারছে না।

আইএফসি’র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ ববি বলেন, অনেক সময় এনবিআরের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হলেও কার্যক্ষেত্রে ফল দিচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়ের নিবন্ধনের জন্য বিডা’র কাছে গেলে তারা ভ্যাট কর্তৃপক্ষের কাছ পাঠান। আবার ভ্যাট কর্তৃপক্ষ বিডা’র কাছে পাঠান।

 

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ