জ্বালানি সহায়তা বাড়াতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৬, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২০, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

ঢাকায় বিমসটেক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান

জ্বালানি সহায়তা সম্প্রসারণে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের  দেশগুলোকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) দেশগুলোর মধ্যে যাদের জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সেই বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোর উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রতিনিধিরা বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দিনের এই সম্মেলন আজ  (বুধবার) দুপুরে শেষ হয়েছে। জ্বালানি সহায়তা নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে একক গ্রিড লাইন নির্মাণ।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে গ্রিড লাইনের নির্মাণ ব্যয় বেশি হবে,নাকি কম হবে, তার ওপরে নির্ভর করছে বিমসটেক অঞ্চলের ভাগ্য বদলের বিষয়টি।

সম্মেলনে বলা হয়, বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে নেপাল,মিয়ানমার,ভারত এবং ভুটানে বিপুল পরিমাণ জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশগুলো আঞ্চলিক সহায়তা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসলে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব।

ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো বলেন, ‘সহায়তা সম্প্রসারণ ছাড়া এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।’ তিনি মনে করেন, বিমসটেক দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এতে করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব হবে।

সমাপনী দিনের প্রথম সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ইনিশিয়েটিভ ফর এনার্জি ইন্টিগ্রেসন (এসএআরআই/ইআই) -এর কারিগরি প্রধান মি. রাজিব রত্ন পাণ্ডা। এতে বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, ভুটানের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামদ্রুপ থিনেলি প্রমুখ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় সেশন পরিচালনা করেন ভারতের ইউএসএইডের ক্লিন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক মাইকেল সাটিন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ইনিশিয়েটিভ ফর এনার্জি ইন্টিগ্রেসন (এসএআরআই/ইআই) এর কারিগরি প্রধান মি.রাজিব রত্ন পাণ্ডা। আর বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ প্রমুখ। সমাপনী বক্তব্য দেন বিমসটেকের জেনারেল সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম।

এছাড়া,মিয়ানমারের ডিপার্টমেন্ট অব ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যানিংয়ের পরিচালক সো সি থু লেনিং বলেন, ‘তাদের কাছে মনে হয়েছে, বিমসটেক দেশগুলো পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদানে আন্তরিক নয়। তথ্যে অপর্যাপ্ততার জন্য মিয়ানমার অনেক কিছু করেও উঠতে পারে না।’

সম্মেলনে জানানো হয়, মিয়ানমারের এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পাঁচ হাজার ৬৪২ মেগাওয়াট।এরমধ্যে তিন হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জল থেকে, প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদন করে দুই হাজার ১৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এছাড়া কয়লা থেকে ১২০ এবং ডিজেল থেকে ৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশটি। মিয়ারমারেও বিপুল পরিমান জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কনফারেন্সে শ্রীলঙ্কার পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের চেয়ারম্যান কিথসিরি লিয়ানেজ বলেন, ‘তার দেশে বিমসটেক সহায়তা সম্প্রসারণে পুরোপুরি ভারতের উপর নির্ভরশীল। ভারত এগিয়ে না আসলে শ্রীলঙ্কার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার জন্য বিকল্প পথ হচ্ছে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের মধ্য দিয়ে গ্রিড লাইন নির্মাণ, যা অর্থনৈতিকভাবে উপযোগী নয়।’

বিমসটেকের সম্মেলনে যোগ দেওয়া নেপালের ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (ইআরসি)চেয়ারম্যান দিল্লি বাহাদুর সিং বলেন, ‘নেপালে ৪২ হাজার মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এখন তারা মাত্র এক হাজার ১৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। নেপাল বিদ্যুৎ চাহিদার বড় একটি অংশ ভারত থেকে আমদানি করে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১০ বছরের মধ্যে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। এর মধ্যে চলতি বছর এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই উৎপাদন বেড়ে হবে তিন হাজার মেগাওয়াট।’

বিমসটেক অঞ্চলে বিদ্যুৎসেবা সম্প্রসারণে তিনটি দেশ পিছিয়ে রয়েছে। এরমধ্যে নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশ গত বছর জুনের হিসেবে ৯৫ ভাগ, গত জুলাই পর্যন্ত নেপাল ৭৮ ভাগ এবং গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার ৫০ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।

 

/এসএনএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ