মাতারবাড়িতে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দু’টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৩:৩০, মার্চ ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০০, মার্চ ১৮, ২০২০

এলএনজিমাতারবাড়িতে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দু’টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছে। এরমধ্যে যৌথ অংশীদারিত্বে জাপানের দু’টি প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালির একটি করে প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে দরপত্র জমা দিয়েছে। দুই কোম্পানির প্রস্তাব রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) থেকে অনুমোদনের জন্য জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাপানের প্রতিষ্ঠান দু’টি কাজটি করার জন্য ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৬ টাকা মূল্য চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির প্রতিষ্ঠান দু’টি যৌথভাবে ২০ কোটি ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৯৯৪ টাকা দাম হাঁকিয়েছে।

১২ মার্চ জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আগ্রহী সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শর্ট লিস্টে থাকা দুই প্রতিষ্ঠানের দর নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিষ্ঠান দু’টির মধ্যে একটি যৌথ কোম্পানি হচ্ছে জাপানের টোকিও গ্যাস ইঞ্জিনিয়ারিং সলুশন্স করপোরেশন (টিজিইএস) এবং নিপ্পন কোই কোম্পানি। অন্যটি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের গালওয়ে গ্রুপ এলএলসি এবং ইতালির রিনা কনসাল্টিং।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেহেতু দামের বেশ পার্থক্য রয়েছে। সঙ্গত কারণে কারা কাজ পাবেন না বোঝা যাচ্ছে। তবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা সমীচিন হবে না।

সরকার দেশের জ্বালানি সংকটের কারণে এখন প্রতিদিন ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে। তবে ক্রমান্বয়ে দেশের গ্যাস উৎপাদন কমে আসাতে সরকার স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বলছে ২০২৫ সালে দেশে প্রথম স্থায়ী টার্মিনাল উৎপাদনে আসবে। এরমধ্যে পায়রার গভীরতা না থাকায় সেখানে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাতারবাড়িতে টার্মিনাল করতে সবচেয়ে ভালো হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান হাইড্রোকার্বন ইউনিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে যদি বড় কোনও গ্যাস ক্ষেত্রে আবিষ্কার না হয় তাহলে ২০২২ সাল থেকেই দেশের গ্যাসের উৎপাদন কমতে শুরু করবে। ২০২৫ সালে সেটি চরম অবস্থায় যেতে ‍শুরু করতে পারে। ২০৩০ সালে উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘণফুটে নেমে যাবে। আর ২০৪১ সালে আমাদের গ্যাসের যে মজুদ আছে তা ফুরিয়েই যাবে। এরপর থেকে আমদানি করা জ্বালানি দিয়েই চলতে হবে। গ্যাসের এই আসন্ন সংকটের কথা বিবেচনা করেই সরকারের পক্ষ থেকে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর ভাসমান টার্মিনালের মতো প্রথমবার ২০১৮ সালের আগস্টে প্রথমবারে মতো জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। এরপরের বছর ২০১৯ সালের এপ্রিলে আরও একটি টার্মিনালের মাধ্যমে আরও এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এগুলো ভাসমান থাকায় সরকার স্থায়ী টার্মিনাল করার চিন্তা করে।

 

 

/এসএনএস/ এসটি/

লাইভ

টপ