সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:৫৪, মার্চ ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১২, মার্চ ২৪, ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা খাত এই ঘোষণার বাইরে। সেই হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজে থাকতে হচ্ছে। এই বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ পটভূমিতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে দিকনির্দেশনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংক্রান্ত সেবা যেকোনও অবস্থাতেই অব্যাহত রাখতে হবে। তবে তিনিও কর্মীদের নিরাপত্তার ওপর সমান গুরুত্বারোপ করেন।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘সেবা নিয়ে সর্বদা গ্রাহকদের সঙ্গেই থাকবো। যেকোনও সময় যেকোনও সমস্যা নিয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যাবে। গ্রাহকরা আমাদের পরিবার। তাদের সুরক্ষা ও হয়রানি রোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের গ্রাহকরা কোথায় গেলে চিকিৎসাসহ প্রশাসনিক সেবা বা তথ্য পাবে সে বিষয়েও সহায়তা করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অফিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ছোট ছোট দলে-উপদলে বিভক্ত করে রোস্টারের ভিত্তিতে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সবসময় বিকল্প টিম প্রস্তুত রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। এসময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সারচার্জ মওকুফের সঙ্গে সঙ্গে প্রি-পেইড মিটারের বিলের বিষয়েও জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘কোনও অবস্থাতেই যেন গ্যাস-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না হয়। বিতরণ কোম্পানিগুলো আপাতত গড় বিল দিতে পারবে যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।’ তিনি প্রত্যেক অফিসেই প্রয়োজনে ‘আইসোলেশন’ রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড থেকে করোনাসংক্রান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা নিতেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেন তিনি।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ছুটি থাকছে না। তবে তাদের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে ওই নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে হটলাইন নম্বরে ফোন দেওয়ার কথা বলছি। ১৬১১৬ নম্বরে ফোন দিয়ে গ্রাহক তার অভিযোগ জানাতে পারবেন।’
তিনি জানান, হেড অফিসসহ সব জোনাল অফিসে মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ সব ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও কমকর্তা বা কমচারীর ঠান্ডাজনিত সমস্যা হলে আপাতত অফিস না করে বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানিগুলো বলছে, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যেসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সেগুলোই তাদের নির্দেশনায় রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যক্রম চালানো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কেপিআই হওয়ায় সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যায় না। ফলে কোনও ধরনের ভিড়ভাট্টা সেখানে সৃষ্টি হয় না। প্রতিদিন সীমিতসংখ্যক লোকই সেখানে কাজ করেন।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি—এক. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দুই. স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ জন্য আলাদা কমিটি করেছি। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে কোথাও যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।’
তিনি জানান, আরইবি’র কন্ট্রোল রুমে দুটি হটলাইন নম্বর (০১৭৯২৬২৩৪৬৭ এবং ০২-৮৯০০৫৭৫) দেওয়া হয়েছে। নম্বর দুটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে আলাদা রোস্টার করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই রোস্টারে চলবে নম্বর দুটি। এখানে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের থাকা-খাওয়া ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আলাদা ভাতাও দেওয়া হবে তাদের।
আমজাদ হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মানে তাদের ক্যাম্প হবে। সেসব ক্যাম্পেও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কমকর্তা-কমচারীদের পর্যাপ্ত মাস্ক, স্যানিটাইজার সরবরাহ করছি। মাঠে কর্মরতদের তাদের আপাতত পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুয়েপমেন্ট) দেওয়া না গেলেও একধরনের অ্যাপ্রোন দিচ্ছি। যাতে তারা সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে পারে। আরইবির ৭০টি সমিতিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাভারে আরইবির ট্রেনিং সেন্টারকে ‘আইসোলেশন সেন্টার’ করার চিন্তা করা হচ্ছে।” সবার স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি জ্বালানি তেল পরিবহন এবং বিতরণকারীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের মতো তারাও একই ধরনের সতর্কীকরণ পদক্ষেপ নিয়েছেন, যাতে কাজ করলেও কর্মীরা এবং তাদের পরিবার নিরাপদ থাকে।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. মোস্তফা কামাল (ফোন নং ০১৭১১-৯৪২০২২) ও উপসচিব (বাজেট) মোছাম্মাৎ ফারহানা রহমান (ফোন নং ০১৭১২-৮৭২০৭৩)। গ্যাস ও জ্বালানিসংক্রান্ত সহযোগিতা ও তথ্য এই কর্মকর্তারা দেবেন। বিদ্যুৎ বিভাগের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) এ কে এম হুমায়ূন কবীর (ফোন নং ০১৭৭৭-১৯০৯১৭) ও যুগ্মসচিব (প্রশাসন) রেজওয়ানুর রহমান (ফোন নং ০১৭১১-৯০৫৮১৯)। বিদ্যুৎসংক্রান্ত সহযোগিতা ও তথ্য এই দুজনের কাছে পাওয়া যাবে।

/এইচআই/

লাইভ

টপ