কেবল সচল প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা পাবেন প্রণোদনা তহবিলের টাকা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:১২, এপ্রিল ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৫, এপ্রিল ০২, ২০২০

বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজেট বরাদ্দ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা তহবিল গঠন করা হয়েছে সেখান থেকে আর্থিক সহযোগিতা পাবে কেবলমাত্র সচল রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এই সার্কুলারে বলা হয়েছে, সচল রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেবলমাত্র শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য সরকার কর্তৃক বাজেট বরাদ্দ হতে ৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা তহবিল গঠন করা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান পাবে ঋণ:

সচল রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রণোদনা তহবিল এর আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা পাবে। যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রফতানি করে তারা রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং যে সব প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে ডিসেম্বর ২০১৯, জানুয়ারি ২০২০ এবং ফেব্রুয়ারি ২০২০ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে তারা সচল শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হবে। এ তহবিল হতে কেবলমাত্র শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন/ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রাপ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সচল এবং উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (যেমন, বিজেএমইএ, বিকেএমইএ ইত্যাদি) প্রত্যয়নপত্র (সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারি কর্তৃক স্বাক্ষরিত) দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

এছাড়াও রফতানিকারকের চলমান রফতানি কার্যক্রম বিষয়ে তফসিলি ব্যাংকের ব্যাংকিং ব্যবস্থা হতে স্বীয় উদ্যোগে তথ্য নিশ্চিত করবে। আবেদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে তফসিলি ব্যাংকের গ্রাহক হতে হবে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকের ন্যূনতম তিন মাসের  (ডিসেম্বর ২০১৯ হতে ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত) রফতানি কার্যক্রম অথবা একই সময়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন- ভাতা ইত্যাদি প্রদান করতে হবে। তবে একের অধিক ব্যাংকের সঙ্গে রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে  যে কোনও একটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণ/বিনিয়োগের জন্য আবেদন পত্র দাখিল করবে।

তহবিল থেকে কত টাকা নেওয়া যাবে:

আলোচ্য তহবিল হতে কেবলমাত্র শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ৩ মাসের বেতন/ভাতা পরিশোধের জন্য ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়া হবে। বেতন/ভাতা বাবদ মাসিক চাহিদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তফসিলি ব্যাংক যোগ্য ঋণগ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের গত তিন মাসের (ডিসেম্বর-২০১৯- ফেব্রুয়ারি ২০২০) প্রদত্ত স্যালারি শিট পরীক্ষা করবে। তবে এরপর দিলেও সংশ্লিষ্ট মাসের আবেদন করা ঋণের পরিমাণ বর্ণিত তিন মাসে প্রদত্ত গড় বেতন/ভাতার বেশি হবে না। গ্রাহকের অনুকূলে সৃষ্ট ঋণ/বিনিয়োগ দ্বারা তফসিলি ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে মোবাইল ব্যাংক সার্ভিসে সরাসরি অর্থ প্রদান করবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যাংকগুলো বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ ও পরীক্ষা করবে। কোনও প্রকার  নগদ (ক্যাশ) লেনদেন করা যাবে না এবং শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব (মোবাইল ব্যাংক) ছাড়া অন্য কোনভাবে লেনদেন করা যাবে না। আলোচ্য পদ্ধতিতে বেতন/ভাতা পরিশোধের বিষয়ে ঋণগ্রহীতা গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে। কোনও শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংক হিসাব না থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে সব শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংক হিসাব খোলা নিশ্চিত করবে। তবে কোনও শ্রমিক-কর্মচারী ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিক-কর্মচারীর এনআইডির ওপর ভিত্তি করে ন্যূনতম জমা ছাড়াই তফসিলি ব্যাংকগুলো হিসাব খোলার ব্যবস্থা করবে। এরূপ হিসাব খোলার জন্য ব্যাংক কোনও চার্জ আরোপ করতে পারবে না।

টাকা যেভাবে আদায় করবে ব্যাংক:

তফসিলি ব্যাংকের অনুকূলে ছাড়কৃত ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কোনও প্রকার সুদ/মুনাফা আরোপ করা যাবে না। তবে, আলোচ্য ঋণ/বিনিয়োগ দেওয়ার সময় ব্যাংকগুলো তাদের প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য এককালীন ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আরোপ করতে পারবে। এ সার্ভিস চার্জ ও সরকার কর্তৃক আরোপিত কোনও চার্জ ছাড়া আর কোনও চার্জ আরোপ করা যাবে না। এছাড়া ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠান সর্বশেষ ঋণ/বিনিয়োগের কিস্তি নেওয়ার পর অর্থাৎ আগামী জুন মাসের বেতন/ভাতার বিপরীতে গৃহীত ঋণের পর ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২ বছরে ১৮টি সমান কিস্তিতে ব্যাংককে সার্ভিস চার্জসহ সমুদয় ঋণ/বিনিয়োগ পরিশোধ করবে।

কোনও ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার ঋণ/বিনিয়োগের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধিত না হলে প্রচলিত নিয়মে ওই ঋণ/বিনিয়োগ শ্রেণীকরণ করতে হবে এবং ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা খেলাপী হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে বকেয়া কিস্তির ওপর ২ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ আরোপ করা যাবে।

পরিশোধ পদ্ধতি:

ছয় মাসের গ্রেস প্রিরিয়ডসহ আর্থিক প্রণোদনা তহবিল হতে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের সময়কাল হবে দু’বছর। গ্রেস পিরিয়ড অতিবাহিত হওয়ার পরে সমান ১৮টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ/বিনিয়োগের অর্থ তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়/প্রিন্সিপাল অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে।

উদাহরণ:

কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঋণ আবেদন প্রাপ্তির পর সামগ্রিক বিষয় যাচাই করে যদি ঐ শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতনের মোট পরিমাণ নির্ণীত হয় ৩০০ টাকা তাহলে ঐ ব্যাংক এপ্রিল মাসের ২০ তারিখের মধ্যে প্রণোদনা তহবিল  হতে ৩০০ টাকা ঋণ প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবরে আবেদন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নামে ৩০০ টাকা ঋণ মঞ্জুর করে এপ্রিল মাসের শেষ কর্ম দিবসের আগে ১০০ টাকা, মে মাসের শেষ কর্ম দিবসের আগে ১০০ টাকা এবং জুন মাসের শেষ কর্ম দিবসের আগে ১০০ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাবে পাঠাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এপ্রিল মাসের শেষ কর্মদিবসে ১০০ টাকা আবেদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ সৃষ্টি করে একইদিনে শ্রমিক কর্মচারীদের ব্যাংক/ মোবাইল ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করবে এবং একইভাবে মে মাসের শেষ কর্ম দিবসে ১০০ টাকা এবং জুন মাসের শেষ কর্ম দিবসে ১০০ টাকা আবেদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ সৃষ্টি করে একইদিনে শ্রমিক কর্মচারীদের ব্যাংক/ মোবাইল ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করবে। ঋণগ্রহীতা কর্তৃক তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে আগামী জুলাই হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ড পাবে এবং প্রথম কিস্তি শুরু হবে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস হতে। সর্বশেষ কিস্তির সময় হবে ২০২২ সালের জুন মাস। এক্ষেত্রে যথাসময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হলে মোট ৩০০ টাকা ঋণের জন্য ১৮টি সমান কিস্তির মাধ্যমে ২% সার্ভিস চার্জসহ ৩০৬ টাকা আদায় করা যাবে। তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে জুলাই হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ড পাবে এবং প্রথম কিস্তি শুরু হবে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস হতে এবং সর্বশেষ কিস্তির সময় হবে ২০২২ সালের জুন মাস।

 

/জিএম/টিএন/

লাইভ

টপ