করোনার কারণে শতভাগ বিদ্যুতায়ন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:২২, এপ্রিল ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫১, এপ্রিল ২৭, ২০২০

 

বিদ্যুৎ

আগামী জুনে গ্রিড সংযুক্ত এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ না হওয়াতে এই সময়ের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক বৈঠক করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে এ পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) কাজ শেষ করেছে ৬৮ দশমিক ৬৩ ভাগ। আরইবির বেশিরভাগ প্রকল্পই শতভাগ বিদ্যুতায়নের। তাদের কাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী জুনের মধ্যে। কিন্তু আর্থিক বছরের ১০ মাসে কাজ হয়েছে ৬৮ ভাগ। ৩২ ভাগ কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এই ৩২ ভাগ কাজ দুই মাসে শেষ করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর কাজ একেবারে শেষের পথে হলেও এরইমধ্যে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ আগামী জুনে শেষ হবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সভায় প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ শতভাগ বিদ্যুতায়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি  সম্পর্কিত ভার্চুয়াল এই সভায় অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন, আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অব.), পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন এবং দফতর ও কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, আগামী জুনে গ্রিড সংযুক্ত এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রিডের বাইরে থাকা মানুষের ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। তবে এখন সব প্রক্রিয়া থমকে আছে। বলা হচ্ছে, এখন ৯৬ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুতের আলো রয়েছে। এই সুবিধা থেকে আর বাকি রয়েছে চার ভাগ মানুষ।

বিদ্যুৎ বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বৈঠকে জানানো হয়েছে, মার্চ ২০২০ পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থিক ৬১ দশমিক ৭০ ভাগ ও ভৌত ৬২ দশমিক ৪০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। চলতি বছর বিদ্যুৎ খাতে মোট ২৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকা এপর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বিনিয়োগ বা জিওবি খাতে ৮৭টি, প্রকল্প সহযোগিতা খাতে ১১টি ও নিজস্ব অর্থায়নে ৬টি-সহ মোট ১০৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনেই, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজে যে পরিমাণ রাজস্ব প্রয়োজন, তা জরুরি ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অভিহিত করা প্রয়োজন।’

প্রতিমন্ত্রী সোমবার তার বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর আওতাধীন দফতর ও কোম্পানির সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি সভায় বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পাওয়া বা সময়মতো বিল না পাওয়ায় আগামীতে সংস্থাগুলোর যে রাজস্ব ঘাটতি হবে, তার একটি পূর্ণ চিত্র প্রয়োজন। এ নিয়ে সরকার ও দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

 

/এসএনএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ