১০ মিনিটে পণ্য শুল্কায়নের রেকর্ড

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৩৮, মে ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১০, মে ২৮, ২০২০

বেনাপোল কাস্টম হাউস, ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়ামাত্র ১০ মিনিটে শুল্কায়ন শেষ, ১৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার—শুল্কায়নের সময় হ্রাসে নতুন রেকর্ড। গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) এ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনাপোল কাস্টম হাউজ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এনবিআর সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে ২১টি রেল ওয়াগন বোঝাই করে ধানের বীজ আমদানি করা হয়। এছাড়া, আনা হয় সাত লাখ ৭৫ হাজার কেজি (৭৭৫ টন) ধানের বীজ। আমদানি করা এই ধানের বীজ দ্রুত কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে নজিরবিহীন এ পদক্ষেপ নেন কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী। এনবিআরের কেন্দ্রীয় কাস্টমস সফটওয়্যার ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’-এর তথ্যে দেখা যায়, ধানবীজের ওয়াগনগুলো ১৯ মে সন্ধ্যা সাতটা ১৯ মিনিটে বেনাপোল রেল স্টেশনে পৌঁছায়। রাত ১১টা ২৭ মিনিটে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সারথি এন্টারপ্রাইজ অনলাইন সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি রেজিস্ট্রেশন করে। ১১টা ৩৬ মিনিটে রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মীরন শুল্কায়ন অনুমোদন করেন।

এরপর ৯ মিনিটের মধ্যে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সোনালী ব্যাংকে শুল্ক কর জমা করেন।

১১টা ৪৬ মিনিটে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রিলিজ অর্ডার প্রিন্ট করেন।

দেখা যায়, সর্বসাকুল্যে ১৯ মিনিটে শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে ১০ মিনিটে শুল্কায়ন ও পরবর্তী ৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার প্রিন্ট হয়।

রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মীরন বলেন, ‘সমগ্র আমদানি প্রক্রিয়ায় এটুকুই কাস্টমসের কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেষ ৯ মিনিট সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট টাকা জমা দিতে নিয়েছেন। সব ঠিক থাকলে পাঁচ মিনিটেও আমরা শুল্কায়ন করার দক্ষতা অর্জন করেছি। কাগজপত্র ঠিক থাকলে কেবল রেল কার্গো নয়, সব ধরনের চালানই দ্রুত শুল্কায়ন করা যায়।’

আমদানি চালানটির বৃত্তান্তে দেখা যায়, ভারত থেকে দুটি চালানে রাইস সিড (ধানের বীজ) আমদানি করা হয়। ২১টি রেল ওয়াগনে ৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি (৭৭৫ মেট্রিক টন) ধানের বীজ আমদানি করা হয়। ঢাকার গুলশানের বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড ভারতের বায়ারবায়ো সায়েন্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এসব বীজ ক্রয় করে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সারথী এন্টারপ্রাইজ বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে (সি-২১৯৯৩ ও ২১৯৯৪)। দ্য সিটি ব্যাংক গুলশান শাখায় এলসি খোলা হয়েছিল। এসব বীজের শুল্ক কর ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৮টাকা।

কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, রেল কার্গোতে আমদানির দ্রুত শুল্কায়ন ও খালাস হয়। সময় ও খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পণ্য নষ্ট হয় না। পার্কিং সিন্ডিকেট মাঝপথে ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি করতে পারে না। রেল কার্গোতে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমদানি করা হয় এবং করোনা ঝুঁকি থাকে  না। ট্রাক ও রেল কার্গোর তুলনা করে দেখা যায়, বর্তমানে রেল কার্গো মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় ভারত থেকে বেনাপোলে পৌঁছে। একটি ওয়াগনে চারটি ট্রাকের সমান পণ্য আনা যায়। রেল কার্গোতে মিথ্যা ঘোষণার সুযোগ কম। ভাড়া ট্রাকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। আবশ্যিক পার্কিং, ট্রাকের অপেক্ষা ও চাঁদাবাজি নেই। দিনে ১০০ বগির একটি ট্রেন ৪০০ ট্রাকের সমান পণ্য আনতে পারে।

তিনি জানান, ট্রাকে করে ধান বীজের এই চালানটি আমদানি করা হলে খালাস করতে ৫ থেকে ৬ দিন লাগতো। ৫০টির বেশি ট্রাকের প্রয়োজন হতো। আর ৫০ জন ড্রাইভারের মধ্যে একজন না এলে খালাস বন্ধ। বন্দর ও রাস্তায় যানজট হতো। ট্রাকে এই একই চালানের ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি। প্রান্তিক ভোক্তা কৃষকের ব্যয় প্রায় ২৫% বেড়ে যেতো।

বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘শুল্কায়নে এই রেকর্ড চোখে আঙুল দিয়ে কয়েকটি জিনিস দেখিয়ে দিলো। আমরা চাইলে পারি! এসব ক্ষেত্রে দরকার যোগ্য নেতৃত্ব। একইসঙ্গে উদ্যমী টিম থাকলে অসাধ্য সাধন সম্ভব। বেনাপোল যেটা সম্ভব করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে দেশের অন্যান্য কাস্টমসের কর্মকর্তা, বন্দর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, দেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করলে এবং সরকারের অন্যান্য বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একই গতিতে দায়িত্ব পালন করলে বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স’ খুব দ্রুত ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। আমরা বিশ্বকে এভাবে ‘কাজে বড়’ প্রমাণ করতে চাই।’

/জিএম/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ