‘বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নযোগ্য নয়’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৪:৩০, জুন ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৩০, জুন ১২, ২০২০

সিপিডি'র অর্থনীতি বিশ্লেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমগবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, ‘বাজেটে সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা যে বাস্তবসম্মত নয়, তা সরকারের ভেতর থেকেই বলা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নিজেই সরকারের কাছে এই বিষয়ে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন।’

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন হওয়া বাজেটের ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে উচ্চাভিলাসী এই বাজেট দেওয়া হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় লক্ষ্যমাত্রাগুলো নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত হয়নি। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না। রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে না। আবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে না।’

বাজেটের বাস্তবসম্মতা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট উপস্থাপন হলে ভালো হতো। কারণ, অবাস্তবায়নযোগ্য বাজেট দেওয়াতে একদিকে অর্থের অভাবে অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না। অপরদিকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগই থাকে না। এই কারণে এই বাজেটের বাস্তব সম্মত লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’

প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ অর্থবছরের পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ৯০ কোটি টাকা টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত এই বাজেটে এনবিআর ও এনবিআরবহির্ভূত খাত মিলিয়ে মোট রাজস্ব আদায় করার কথা তিন লাখ ৭৮ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে ভ্যাটে। এই খাতে এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা আদায় করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আয়কর থেকে আসবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা এবং শুল্কখাত থেকে আসবে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। তিন খাতের কোনও খাতই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় না হলে সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংকের ওপর বেশি নির্ভর হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত প্যাকেজ বাস্তবায়ন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা এমনিতেই ভালো না। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত টাকাও নেই। কিন্তু সরকার যদি ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে তাহলে বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তারা চাহিদা অনুযায়ী ঋণ পাবে না। তাই ব্যয়ের খাত কমিয়ে আনার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি জানান, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করতে পারলে তবেই লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব। এই বছর বাজেট প্রণয়নে বিভিন্ন খাতের বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ নিলেও সামগ্রিক বাজেটের আকার নিয়ে সরকার অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ নিচ্ছেন না। বাজেটটি এখন প্রস্তাব আকারে এসেছে। এটি এখন আলোচনা হবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে রাজস্ব কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

/জিএম/এনএস/

লাইভ

টপ