বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের অভিমতবাজেটে অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর রূপরেখা যথেষ্ট নয়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৫, জুন ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৫, জুন ১৩, ২০২০

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজনতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সংগঠনটি বলছে, আরও সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন ছিল বাজেটে। একই সঙ্গে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে ‘উচ্চাভিলাসী’ অভিহিত করেছে তারা।

শনিবার (১৩ জুন) ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে বিসিআই থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় এসব অভিমত দেওয়া হয়।  

সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরীর (পারভেজ) স্বাক্ষরিত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার প্রথা অব্যাহত রয়েছে যা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ, কালো টাকা উপার্জন এবং এর ব্যবহার উভয়ই অন্যায় এবং অবৈধ। এতে বৈধ অর্থ উপার্জনকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন।

বিসিআই সভাপতি বলেছেন, ব্যাংক থেকে সরকারের যে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তাতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যেতে পারে। বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বাজেটের ১১ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ এ মুহূর্তে জরুরি নয়। এ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করে এমন সব প্রণোদনা প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত হলেই বেশি জনকল্যাণমুখী হতো।

বিসিআই সভাপতি বলেন, করোনা মোকাবিলায় বাজেটের দিক নির্দেশনা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী হওয়া উচিত ছিল। শুধু রফতানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ বাজারমুখী শিল্পে গুরুত্বারোপ করতে হবে। সরকারের যে প্রণোদনা প্যাকেজ আছে অন্তত সেটা যথাযথভাবে বিতরণ করতে হবে। কারণ বিতরণ ছয় মাস পরে করলে কোনও লাভ হবে না।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিসিআই কিছু দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে - শিল্প ক্ষেত্রে করপোরেট কর হার কমাতে হবে। ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতি সম্পূর্ণ অনলাইন করা, রিফান্ড পদ্ধতি সহজীকরণ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনের ধারা অনুযায়ী ভ্যাট, শুল্ক ও অগ্রীম কর দুই মাসের মধ্যে রিফান্ড করা। দেশিয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করতে হবে। গ্রামীণ বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বেশি প্রয়োজন সেদিকে নজর দিয়ে কৃষি ও কুটির শিল্প নির্ভর গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় করার লক্ষ্যে বিশেষ স্কিম নিতে হবে। করোনা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

দাবির মধ্যে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বাজেটে করোনা মোকাবিলায় থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা একটি অভিন্ন নীতিমালার আলোকে সুচারুরূপে ব্যয় করতে হবে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের ১৫ দশমিক ১ শতাংশ বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে স্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখাতে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।

কৃষি, হালকা প্রকৌশল, ব্লু-ইকনোমিসহ সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর উন্নয়নে শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীর দরকার হবে। এক্ষেত্রে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এখন অবশ্য প্রয়োজনীয়। এসএমইসহ বিসিক এবং ইপিজেডে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভাড়া মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মওকুফ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় পর্যায়ে লোকাল এলসির মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনার ক্ষেত্রে উৎসে কর ২ শতাংশ না করে ১ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হোক। সকল রফতানিমুখী শিল্পের জন্য উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ এবং করপোরেট কর ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক। ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের জন্য সরকার ঘোষিত সব প্রণোদনা প্যাকেজ বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে বিতরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 

/এসআই/এফএস/

লাইভ

টপ