তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান না করার অনুরোধ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১২:০০, জুন ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০, জুন ১৫, ২০২০

সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধান (ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পড়ে গেছে। তাই এখনই প্রোডাকশান শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বা উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তির দরপত্র আহ্বান না করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক তেল গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) তরফ থেকে। অফশোর ও অনশোরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে পিএসসি আহ্বানের জন্য পেট্রোবাংলা যখন সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছিল, ঠিক তখন আইওসি’র তরফ থেকে এমন অনুরোধ জানানো হলো। পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কোন কোন কোম্পানি এই আহ্বান জানিয়েছে, তা বলতে সম্মত হয়নি কোন সূত্র।

কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি খুবই ইন্টারনাল। ফলে এগুলো প্রকাশ না করাই ভালো। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ঝামেলা সৃষ্টি হয়।

এদিকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে চলতি বছর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি বিভাগ। সেই লক্ষে কাজও শুরু করেছে পেট্রোবাংলা।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা বলেন, 'কোভিড-১৯ এর কারণে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্বব্যাপী কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানিখাতে বিনিয়োগ পাওয়া অনেক কঠিন। ফলে ভালো দামও দিতে পারবে না কোম্পানিগুলো। এতে করে সব দিক থেকেই একটি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।'

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, 'সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের অনেক দিনের যে প্রচেষ্টা, সেখানে বড় রকমের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে বিষয়টিকে। বলা হচ্ছে, সাগরে এক মৌসুম বা শীতের সময় শুধু কাজ করা যায়। অন্য সময়ে সাগর উত্তাল থাকে। ফলে দরপত্র হলেও কাজ শুরুর প্রস্তুতিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে এবছর দরপত্র না করতে পারলে এক বছরের জায়গাতে কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে হবে।'

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, পিএসসি-২০১৯ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর থেকেই সাগরে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পেট্রোবাংলা। গত কয়েক মাসের চেষ্টার পর দরপত্র প্রস্তুত। কোন কোন এলাকা ইজারা দেওয়া হবে এবং আয়োজন কতো, এসব সম্পর্কে কী কী তথ্য-উপাত্ত রয়েছে তা বিচার বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে পিএসসি আহ্বানের এই খবরটিও নানা মাধ্যমে আইওসিকে জানানো হয়। আর এ কারণেই আইওসি পেট্রোবাংলাকে আপতত পিএসসি আহ্বান না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়।

তবে এরপরও আগামী মাসের অর্থাৎ জুলাইয়ের শুরুর দিকে বিড ডকুমেন্ট বা দরপত্র আহবানের কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য জ্বালানি বিভাগে পাঠাবে পেট্রোবাংলা। পাশাপাশি আইওসিগুলোর এই অনুরোধের কথা জানিয়ে একটি চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে তারা।

জানা যায়, বর্তমানে অগভীর সমুদ্রে ব্লক-১১টি-তে অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস, সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি কাজ করছে। ভারতের প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড অগভীর সাগরের ৪ এবং ৯ নম্বর ব্লকে কাজ করছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরের ১২ নম্বর ব্লকে কাজ করছে কোরিয়ান কোম্পানি পোসকো দাইয়ু। সাগরের অন্য ব্লকগুলোতো এখন কেউ কাজ করছে না। অন্যদিকে ভারত এবং মিয়ানমার তাদের এলাকায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে। মিয়ানমার তাদের ব্লক থেকে তোলা গ্যাস চীনে রফতানিও করছে। এই বাস্তবতায় দেশের সীমান্তে থাকা ব্লকগুলোতে অন্তত তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করা হয়। তবে এক্ষেত্রে ২০০৮ সালের পর থেকে বার বার পিএসসি আহ্বান করেও খুব ভাল সাড়া পায়নি পেট্রোবাংলা। আন্তর্জাতিক তেল গ্যাসে কোম্পানিগুলো বঙ্গোপসাগরের এই অংশে কাজ করতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।

জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, 'আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগামী মাসের শুরুতেই আমরা পেট্রেবাংলা থেকে জ্বালানি বিভাগে পিএসসি আহ্বানের অনুমোদন চেয়ে চিঠি দিতে পারবো বলে আশা করছি।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ