শেয়ারবাজারে ফিরে আসছে টাকা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২২:০৯, জুলাই ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৭, জুলাই ২৫, ২০২০

ডিএসইহতাশার শেয়ারবাজার এখন অনেকটাই স্বাভাবিক আচরণ করছে। দেখা যাচ্ছে, এক সপ্তাহে বাজারে লেনদেন কম হচ্ছে, কিন্তু বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া টাকা অল্প পরিমাণ হলেও ফিরে আসছে। একইভাবে আরেক সপ্তাহে হয়তো মূল্য সূচকের পতন হয়েছে, এরপরও  শেয়ারবাজার থেকে  হারিয়ে যাওয়া টাকার কিছু অংশ  ফিরে এসেছে। তবে এখনও শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের আস্থার সংকট রয়েছেই। অনেকে বলছেন, কোম্পানিগুলোর শেয়ার মূল্যের ফ্লোর প্রাইস (কৃত্রিম সাপোর্ট) দিয়ে রাখার কারণেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ. বি. মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে বিনিয়োগ আসতে শুরু করলে এমনিতেই বাজার ভালো থাকবে। ভালো কোম্পানি যখন আসবে, তখন আস্থাও বাড়বে। এছাড়া, বাজারে আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা থাকলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।’

প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। এরপরও ওই সপ্তাহে শেয়ারবাজারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ফিরে এসেছে। তবে গত সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, বেড়েছে তার দ্বিগুণের বেশি। এতে এই সপ্তাহে শেয়ারবাজারে দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে ফিরে এসেছে। বড় অঙ্কের অর্থ ফেরার সপ্তাহে বেড়েছে সবকটি মূল্য সূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টির। আর ১৬৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল তিন লাখ ১৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে দুই হাজার ৫১ কোটি টাকা।

বাজার মূলধন বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের পরিমাণ সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।

এদিকে আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৫৪ কোটি ৪ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় এক হাজার ৫০৮ কোটি ৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২৭০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, করোনার প্রকোপ শুরু হলে দেশের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ পতন দেখা দেয়। এ পতন ঠেকাতে ১৯ মার্চ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দাম) নির্ধারণ করে নতুন সার্কিট ব্রেকার চালু করা হয়। এতে দরপতন ঠেকানো গেলেও দেখা দেয় লেনদেন খরা। এ অবস্থায় একটি পক্ষ থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার জন্য নানামুখী চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ সপ্তাহ সূচকটি বাড়লো। আগের চার সপ্তাহে ৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট, ৭৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট, ১৭ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট এবং ৬ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বাড়ে।

প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে বেড়েছে ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক। শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত এ সূচকটি গত সপ্তাহে বেড়েছে দশমিক ৬১ পয়েন্ট। এই সূচকটিও টানা পাঁচ সপ্তাহ বাড়লো। আগের চার সপ্তাহে এ সূচকটি ৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট, ১৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট, ২ দশমিক ৬১ পয়েন্ট এবং দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বাড়ে।

বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইর আরেকটি সূচক ডিএসই-৩০। এ সূচকটি গত সপ্তাহে বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি দশমিক ৬১ পয়েন্ট কমে। অবশ্য তার আগের তিন সপ্তাহজুড়ে সূচকটি টানা বেড়েছিল।

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ