সঠিক পথেই এগুচ্ছে শেয়ারবাজার

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৭:১০, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১২, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

 

করোনার মাঝেও দেশের শেয়ারবাজারে চাঙাভাব বিরাজ করছে।  শুধু তাই নয়, অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে সবকটি মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাজার মূলধন। এর মাধ্যমে টানা ১২ সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকলো দেশের শেয়ারবাজার। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন কমিশন গঠনের পর প্রথমবারের মতো সূচকটি ৫ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করলো।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১ পয়েন্টে। গত প্রায় এক বছরের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৩৪ পয়েন্ট।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি বাজারে যে গতিবিধি দেখা যাচ্ছে— সেটাকে সঠিক পথই বলতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এমন শেয়ারবাজারই আশা করছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে ব্যবসা বাণিজ্যের যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা দূর হলে শেয়ারবাজার আরও বেগবান হবে। তবে বাজার স্বাভাবিক রাখতে হলে যে কাজটি করতে হবে তা হলো— কেউ যাতে বাজারে কারসাজি করতে না পারে, সে ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া ভালো শেয়ার আনার চেষ্টা করতে হবে। সরকারি কোম্পানি আনতে হবে। এর সঙ্গে দরকার হবে সুশাসন।’

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছর শুরু হয়েছিল ডিএসইএক্সের নিম্নমুখী প্রবণতা দিয়ে। বছরের শুরুর দিনে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৪৫৩ পয়েন্টে। তখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে ছিলেন এম খায়রুল হোসেন।  তার সময়  করোনা সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকে।  তবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বে  নতুন কমিশন গঠনের পর গত ৩১ মে থেকে বাজার পুনরায় চালু হয়। শুধু তাই নয়, বাজার চালুর পর নেওয়া হয় নানামুখী উদ্যোগ। তবে বাজারে গতি ফিরতে শুরু করে জুলাই মাসের শুরু থেকে। প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট।  বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে টানা ১২ সপ্তাহ পার করে এই বাজার।

ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।

গত সপ্তাহে সূচক ও বাজার মূলধন বাড়লেও গড় লেনদেন কিছুটা কমেছে। এরপরও ডিএসই-তে গড়ে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। গত সপ্তাহে গড় লেনদেন শূন্য ৮ শতাংশ কমলেও ডিএসইর সবকটি সূচক বেড়েছে এক শতাংশের ওপরে।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ২৯৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৪ হাজার ২৩৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। আর ১২ সপ্তাহের টানা এই উত্থানে ডিএসই’র প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে ১ হাজার ৪৮ পয়েন্ট। প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি টানা ১২ সপ্তাহ বেড়েছে ডিএসইর শরিয়াহ সূচকও। শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত এ সূচকটি গত সপ্তাহে বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭০ পয়েন্ট। এর মাধ্যমে টানা ১২ সপ্তাহের উত্থানে সূচকটি বাড়লো ২৪০ পয়েন্ট।

বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকটি গত সপ্তাহে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। এর মাধ্যমে সূচকটি টানা আট সপ্তাহ বাড়লো। টানা আট সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ৩৭১ পয়েন্ট।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১১৯টির। ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ