গ্রাহকের নিরাপত্তায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থার সুপারিশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৫১, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫২, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার (ইপি) আয়োজিত ওয়েবিনারস্কাডা, ডিজিটাল ম্যাপিং, জিআইএস মনিটরিং এবং লাইডারের মতো আধুনিক ব্যবস্থার সংযোজন গ্যাস এবং বিদ্যুতের গ্রাহকদের নিরাপত্তা দিতে পারে। কিন্তু দেশে এর বেশিরভাগেরই প্রয়োগ নেই। বিদ্যুৎ বিতরণে স্কাডা চালু থাকলেও গ্যাস বিতরণে একেবারে তা নেই। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে পাক্ষিক ম্যাগাজিন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার (ইপি) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে দুর্ঘটনার পর বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। এরপরই সরকার বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে নড়ে চড়ে বসেছে। তবে সরকারি প্রকল্প গ্রহণ সময় সাপেক্ষ বিষয়, এর মধ্যে আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করা প্রবাসী সুলতানা নাসরিন বলেন, লাইডার নামের এক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ম্যাপিং করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে সাধারণত আকাশ থেকে কোনও একটি শহরকে স্ক্যান করা হয়। উড়োজাহাজ বা ড্রোন দিয়ে এটি করা হয়, তবে স্থলভাগে গাড়ি দিয়েও এই স্ক্যানিং করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে কোথায় পাইপলাইন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন কী অবস্থায় রয়েছে তা দেখা যাবে। বাংলাদেশে এখনও লাইডার প্রযুক্ত ব্যবহার করা হয়নি।

তিনি বলেন, এখন ড্রোনে এমন এক ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়, যা মিথেন গ্যাস নির্গমন চিহ্নিত করতে পারে। দেশের গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো এ ধরনের ড্রোন দিয়ে নিয়মিত সার্ভে করলে লিকেজ খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে সংযুক্ত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার সালেক সুফি বলেন, তিতাসের পেট্রল টিমের প্রতিদিন ১০ কিলোমিটার করে পাইপলাইন মনিটর করার কথা। কিন্তু তারা সেটা করে না। এক সময় দেশের গ্যাস সেক্টরে কাজ করা সালেক সুফি বলেন, আমার সময় স্কাডা চালু করেছিলাম। কিন্তু পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিতাসের ডিজিটাল ম্যাপিং এর উদ্যোগ তিতাস বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরোধিতার মুখে আর করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এখন স্যাটেলাইট দিয়েও পাইপলাইন মনিটর করা হয়। কিন্তু কোনও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য বজলুর রহমান সেমিনারে বলেন, মন্ত্রণালয় বিদ্যুতের যে সমন্বয় সভা করে সেখানে গ্রাহকের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় না। এখানে তেমন কোনও বরাদ্দও থাকে না। এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আইনে গ্রাহককে সুরক্ষা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তিতাসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোক্তাদির আলী বলেন, তিতাসের জরুরি সেবা টিমের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা এই সেবা চালু রাখতে হবে। তার সময়কাল ২০০০ সালের কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন কোনও ঘটনা ঘটলে আধাঘণ্টার মধ্যে জরুরি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে পারতো। এখন সেটি তিন ঘণ্টায় সম্ভব। তিনি বলেন, আগে যারা পেট্রল ডিউটি করতো তাদের স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া হতো। এখন আর তা হয় না। এখন অন্য জায়গা থেকে নেওয়া হয়। ফলে তারা এলাকা না চেনায় কাজও ঠিক মতো করেন না। অতীতে পেট্রোবাংলা এবং বিপিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকারী মোক্তাদির আলি বলেন, পাইপ লাইন সংস্কার খাতে অন্তত ১০ ভাগ বরাদ্দ রাখতে হবে।

ইপির সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহি চৌধুরী, বিইআরসির সাবেক সদস্য আজিজ খান, বুয়েটের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন, বাপেক্স এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্তজা আহমেদ ফারুক চিশতী ছাড়াও বিদ্যুৎ এবং গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

 

/এসএনএস/এফএস/

লাইভ

টপ