ব্যাংকের কাছে গুরুত্বহীন ছোট ব্যবসায়ীরা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১১:০০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৬, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

ঋণ

ব্যাংকগুলোর কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বড় ব্যবসায়ীরা ১০০ টাকা থেকে গড়ে ৬৮ টাকা পেয়েছেন। অথচ ছোট ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৬ টাকা। শুধু তাই নয়, প্রণোদনা প্যাকেজ হতে যেখানে এক হাজার ৭৮৬ জন বড় ব্যবসায়ীকে দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা, সেখানে ৯ হাজার ৫০ জন এসএমই খাতের উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিকে অনেকে বলছেন, আসলে তেলে মাথায় তেল দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

প্রণোদনা প্যাকেজের দু’টি বড় খাত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,  ব্যাংক খাতের প্যাকেজ থেকে বড় ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে পারলেও ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট উদ্যোক্তারা নিতে পারছেন খুবই সামান্য।

ব্যাংক কর্মকর্তারাও বলছেন, বড় শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া নিয়ে তাদেরকে বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টর এবং ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই খাতে প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ রেখেছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এই প্রণোদনায় সবচেয়ে বড় প্যাকেজটি হচ্ছে—করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ সুবিধা প্রদান। এই প্যাকেজ বাস্তবায়নে অর্থ দেওয়া হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত  এই প্যাকেজ হতে এক হাজার ৭২১ জন ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এর বাইরে সচল রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জুন মাসের বেতনভাতার হিসাবে আড়াই হাজার কোটি টাকা, জুলাই ২০২০ মাসের বেতনভাতা আরও ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ।

অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ খাত থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ৯ হাজার ৫০ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আলোচ্য প্রণোদনা প্যাকেজ হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।  এই সময়ে প্যাকেজটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ।

ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর মাধ্যমে তারা অর্থনীতি চাঙা করার চেষ্টা করছে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বড়দের টাকা দেওয়ার ব্যাপারে সব সময়ই ব্যাংকগুলো আগ্রহী থাকে। এর সুফলও পাচ্ছে পোশাক খাত। তবে অবহেলায় থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারিরা। যদিও ক্ষুদ্র ও মাঝারিরাই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।’

এদিকে ৫ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৭ হাজার ৮০১ জন কৃষক ও কৃষি ফার্মের অনুকূলে এই প্রণোদনা প্যাকেজ হতে মাত্র ৪৯৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। যদিও সচল রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় যে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তার পুরোটাই গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের এপ্রিল-মে-জুন মাসের বেতন বাবদ দেওয়া হয়েছে। এই ঋণের সুদহার মাত্র ২ শতাংশ।

একইভাবে নিম্ন আয়ের পেশাজীবী কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬টি ক্ষুদ্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজ হতে ৯ হাজার ৮৮২ জন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মাত্র ২৭৬ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

যদিও রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে ৫৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ১০৯ জন গ্রাহককে এই ঋণ দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২ শতাংশ সুদে এক হাজার ৭১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ