কর ও ভ্যাট থেকে কমেছে সরকারের আয়

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৫:০০, অক্টোবর ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৫, অক্টোবর ০৯, ২০২০

এনবিআরআয় কমে যাওয়ার কারণে দেশের মানুষ গত বছরের মতো এবারও সরকারকে কর দিচ্ছে না। একইভাবে ব্যবসা করে গত বছরের মতো তারা সরকারকে ভ্যাটও দিচ্ছে না। তবে আমদানি ও রফতানি খাত থেকে সরকার ভালো রাজস্ব পাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের (জুলাই- আগস্ট) তুলনায় এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি ও রফতানি খাতে সরকারের আয় বেশি হয়েছে, যার পরিমাণ ৪৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট এই দুই মাসে  আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে সরকারের আয় হয়েছিল ৮ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। এই বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সরকার এ খাত থেকে তার চেয়ে ১০৫ কোটি টাকা কম রাজস্ব আহরণ করেছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে রাজস্ব আহরণ করেছে ৮ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্য মতে, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় এই বছরের প্রথম দুই মাসে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক বা ভ্যাট থেকে আদায় কমেছে ২৮০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এনবিআরের হিসাবে, এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর গত বছরের একই সময়ে ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৬৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনার কারণে মানুষের আয় কমে গেছে, যার কারণে আয়কর খাত থেকে সরকারের আয়ও কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী,  করোনায় মানুষের আয় কমেছে ২০ শতাংশ। বিবিএস বলছে, করোনার আগে গত মার্চ মাসে প্রতি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা। আগস্টে কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৯২ টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ মাসের ব্যবধানে পরিবারপ্রতি আয় কমেছে প্রায় চার হাজার টাকা।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘যেখানে মানুষের আয় কমে যায়, সেখানে রাজস্ব আহরণও কমে যাওয়ারই কথা।’ তার মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য সব চালু হলেও স্বাভাবিক হতে অন্তত এক বছর লেগে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, বেচাকেনা যখন বাড়বে তখন ভ্যাট আদায়ও বাড়বে। মানুষের আয় যখন বাড়বে, তখন আয়কর খাত থেকে সরকারের আয়ও বাড়বে।

অবশ্য আয়কর খাত ও ভ্যাট থেকে সরকারের আয় কমলেও আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে। এনবিআরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি ও রফতানি খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে, যার পরিমাণ ৪৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এনবিআরের গবেষণা প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের তথ্য বলছে, এই বছরের জুলাই ও আগস্ট দুই মাস শেষে আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে সরকারের আয় হয়েছে ১০ হাজার ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৯ হাজার ৫৭২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এনবিআরের তথ্য বলছে, আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে আয় বাড়ার কারণে আগস্টে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি গত দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের (২০১৯ সালের ) আগস্টে রাজস্ব আয়ের কোনও প্রবৃদ্ধিই ছিল না। উল্টো আগের বছরের (২০১৮ সালের) তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছিল ৫ শতাংশ। আর ২০১৮ সালের আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল মাত্র ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এনবিআরের হিসাবে, গত আগস্ট মাসে ১৫ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে এনবিআর, যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনও আগস্ট মাসের চেয়ে বেশি। গত বছরের আগস্টে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগস্টে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। আর ২০১৭ সালের আগস্টে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের আগস্টে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১২ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা।

এনবিআরের হিসাবে দেখা গেছে,  গত জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসে ৩০ হাজার ১৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা শুল্ক-কর আদায় হয়েছে। এই সময়ে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার ৯৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ১০ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে এখনও রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। যদিও ২০২০-২১ অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ