শেয়ার ছাড়তে তোড়জোড় সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ০৯:০০, অক্টোবর ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২২, অক্টোবর ১৫, ২০২০

ছয় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি

বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সরকারি মালিকানার সব কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগে থেকে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার বাজারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এবার বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিতরণের কাজে যুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসতে যাচ্ছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের সংকট দূর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি নাগাদ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে আসতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দ্রুত শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। এখন সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তিনি জানান, এজন্য কোম্পানিগুলোর জনবল কাঠামোয় পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোম্পানির অর্গানোগ্রামে শেয়ার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে জানানো হয়, সব কোম্পানিকে অনুমোদিত মূলধন (অথোরাইজড ক্যাপিটাল), পরিশোধিত মূলধন (পেইড আপ ক্যাপিটাল) এবং সরকারের পুঁজি’র (গভর্নমেন্ট ইকুইটি)  হিসাব প্রস্তুত এবং সরকারের পুঁজিকে শেয়ারে রূপান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। ওই বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) বিষয়টি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) অথোরাইজড ক্যাপিটাল, পেইড আপ ক্যাপিটাল এবং গভর্নমেন্ট ইকুইটি’র হিসাব প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে ওই বৈঠকে জানানো হয়। এদিকে বিআর পাওয়ার জেন , নর্দান ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো), নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) এবং ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) গভর্নমেন্ট ইকুইটি শেয়ারে রূপান্তরের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) ও ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি) শেয়ার আপাতত ছাড়া হচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) আগে থেকেই শেয়ারবাজারে রয়েছে।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (সিপিজিসিবিএল) শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে। আর ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিস্টেড কোম্পানি হিসেবে শেয়ার বাজারে ছেড়েছে। এখানেও সরকারি ইক্যুইটি শেয়ারে রূপান্তর করে জানুয়ারি ২০২১ এ বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত হবে বলে ডেসকো সূত্র জানায়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব কোম্পানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাবেন। ফলে শেয়ারবাজারের চিত্র বদলে যাবে। অন্যদিকে এসব কোম্পানির নতুন প্রকল্প করতে গেলে সরকারকে মূলধনী বিনিয়োগ করতে হয়। সেটি আর হবে না। শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগ সংস্থান করা যাবে।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই উদ্যোগের ভালো-খারাপ দুটি দিকের কথাই জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব কোম্পানি প্রতি বছর যে মুনাফা করে তা দিয়েই নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্পের মূলধনী বিনিয়োগ করতে পারে। তবে সরকার শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ যখন দিয়েছে, এখন সেই আদেশ পালন করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা তাই করছি।’

আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এতে কোম্পানিগুলোর আর্থিক জবাবদিহিতার জায়গা আরও স্পষ্ট হবে। দ্বিতীয়ত কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ইকুইটি বা মূলধনী বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। এই মূলধনী বিনিয়োগ না করতে পারলে ব্যাংক ঋণ পাওয়া সম্ভব হয় না। শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেখান থেকেই এই বিনিয়োগের অর্থ তুলে আনা সম্ভব। মূলত বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট এতে ঘুচে যাবে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের কাজের পরিধি বড় হচ্ছে। অনেক কাজ করছি আমরা। অনেক বিনিয়োগ দরকার। এই বিনিয়োগ তাই একভাবে না নিয়ে নানাভাবে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা সব কোম্পানিকেই শেয়ারবাজারে আসার কাজ শুরু করতে বলেছি। এতে বিনিয়োগও আসবে। আবার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাও থাকবে।’ 

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ