২০১৫ সাল: চাপ সামলে এগিয়েছে অর্থনীতি

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ০৬:০৬, জানুয়ারি ০১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৬, জানুয়ারি ০১, ২০১৬

চাপ সামলেও ২০১৫ সালে দেশের অর্থনীতি এগিয়েছে। বছরটির শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, তৈরি পোশাক খাতে জিএসপি না পাওয়া, প্রত্যাশা অনুযায়ী জনশক্তি রফতানি না হওয়ায় অর্থনীতির ওপর চাপ ছিল শুরু থেকেই। সেই চাপ সামলে দেশের অর্থনীতি এখন অনেকের ঈর্ষারও কারণ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), আইএমএফ-এর নেতিবাচক মন্তব্যের পরেও এগিয়ে চলেছে দেশের অর্থনীতি। বছর শেষে সরকারের সব অর্থনৈতিক সূচক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকেই এগিয়ে চলছে।অর্থনীতির অগ্রগতির সরকারের অরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হচ্ছে বিনিয়োগ বোর্ড ও বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশনকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাজস্ব আদায় লক্ষ্য অর্জিত না হলেও এ বছর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বহু সংকট কাটিয়ে এ বছরই সরকার কার্যকর করতে যাচ্ছে ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন ৮ম বেতন কাঠামো। এ জন্য সরকারের বাড়তি খরচ হবে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অতীতে একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারে ৪জন সদস্য (স্বামী, স্ত্রী ও ২ সন্তান) ধরে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও এ বছর ৬ সদস্যের (স্বামী স্ত্রী ২ সন্তান ও বাবা মা) পরিবার ধরে নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন বেতন কাঠামো। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানুয়ারি মাসেই পাবেন রতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (২০১৫ সালের জুলাই-নভেম্বর) রফতানি আয়ও বেড়েছে। এর পরিমাণ ১ হাজার ২৮৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের তুলনায় এ পরিমাণ ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২০৭ কোটি ডলার।

২০১৫ সালের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে কারও সহায়তা না নিয়ে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত টাকায় বহুল আলোচিত-সমালোচিত পদ্মা বহুমুখী সেতু। চলতি মাসের ১২ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মায় ৭নং পিলারের পাইলিং ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যেরই প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ববাসী। পদ্মার দুই পারে অর্থাৎ বিকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে দুটি জনসভায় দেওয়া বক্তৃতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ে নিয়ে যেতে পদ্মা সেতু প্রকল্প সরকারের বড় প্রতিশ্রুতি। এটি বিশ্ববাসীর কাছে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি সবুজ সংকেত। এর সঙ্গে দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি জড়িত। এটি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

২০১৫ সালটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়েই শুরুই হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এক পর্যায়ে অস্থিরতা কাটলেও বিরাজ করছিল অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক গুমট ভাব ছিল ২০১৫ সালের প্রায় পুরো সময়জুড়েই। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অবরোধ-হরতালের নামে চলেছে চরম নৈরাজ্য। রাজনৈতিক কর্মসূচি ডেকে বিএনপি ও তার জোট শরিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকলেও প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও চোরাগোপ্তা পেট্রোলবোমায় মানুষ পুড়েছে। সম্পদ জ্বলেছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যানবাহন। ধ্বংসের হাত থেকে বাদ যায়নি যোগাযোগের অন্যতম বাহন রেলও। সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। বছরের আলোচিত ঘটনার উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়নি সরকার। তবে সরকারের সতর্ক অবস্থান এ আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে যে চাপাকান্না ছিল তা বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। 

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন বছরের শুরুতে হরতাল-অবরোধে বড় ঝুঁকিতে পড়েছিল অর্থনীতি। নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির জের ধরে বিএনপি অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা করেছিল।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) হিসাবে দেশের ওই সময়ের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপির হিসাব অনুযায়ী ০ দশমিক ১৭ শতাংশ।  সে হিসাবে প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ২৭৭ কোটি ৮৬ হাজার টাকা, তবে প্রতিদিন শিল্প উৎপাদন সক্ষমতায় ২৫ শতাংশ ক্ষতি ধরলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এ হিসাবে ৯০ দিনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের অর্থনীতির প্রাণ তৈরি পোশাক খাত। অবরোধ-হরতাল ও সহিংসতার কারণে এ খাতই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯০ দিনে পোশাক উৎপাদন ও রফতানি খাতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭৫ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ক্ষতি হয়েছে ৮৪২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, এ খাতে উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমেছে। ওই সময়ে বিদেশি বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ক্রয় আদেশও কমেছিল ওই সময়ে। একই কারণে আকাশ পথে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ওই হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৩২ হাজার কন্টেইনার আটকা পড়ে ছিল। যার কারণে শিল্প কারখানায় কাঁচামাল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এসব কারণে শিল্প কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রবণতাও বেড়েছিল।

তৈরি পোশাক খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি না পাওয়ায় সরকারের ওপর চাপ ছিল। চাপ ছিল জনশক্তি রফতানিতে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায়। তারপরও এগিয়েছে ২০১৫ সালের অর্থনীতি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের ৬ দশমিক ১১ শতাংশের মূল্যস্ফীতি ২০১৫ সালের নভেম্বরে এসে নেমেছে ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে। একইভাবে ২০১৪ সালের তুলনায় দেশের রেমিটেন্স সামান্য কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে জুলাই থেকে নভেম্বও পর্যন্ত রেমিটেন্স এসেছে ৬১৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।  গর্ব আর অহঙ্কারের সীমা ছাড়িয়েছে দেশের রিজার্ভ। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চাপ সামলে দেশের অর্থনীতি যে এগিয়েছে তার প্রমাণ হচ্ছে—চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক উৎস থেকে সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে  ৩০ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ০৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এনবিআর কর বাবদ আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এনবিআর বহিভূর্ত কর আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে এবারের বাজেটে। এ বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতি সচল রাখতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নতির চ্যালেঞ্জের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই দিক বিবেচনায় রেখে এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে পদ্মাসেতু খাতে। যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। যা মোট ব্যয়ের  দশমিক ৩ শতাংশ। শিক্ষা প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। যা মোট ব্যায়ের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতিরক্ষাখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। যা মোট ব্যয়ের ৬ দশমিক ২ শতাংশ। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা  হয়েছে ২১ হাজার ১ কোটি টাকা। যা মোট ব্যয়ের ৭ শতাংশ। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ১৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতে ১২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।

অর্থনীতিতে ৮ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। আর তা হলো—মন্দা মোকাবিলা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব খাতে পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, পদ্মা সেতুসহ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থ সরবরাহ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও খাদ্যখাতে ভর্তুকিসহ কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হ্রাস এবং প্রয়োজনে ব্যয়সংকোচন। এছাড়া, জ্বালানি খাতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় প্রদ্ধতি বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখা, বিদেশি অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার কাঙ্ক্ষিত স্তর এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যে সামনে এগুচ্ছে, তা স্বীকার করে ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফররত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু তার বক্তৃতায় বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি চোখে পড়ার মতো। সদ্য বিদায়ী বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস জাটও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে আয়োজিত তার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে চলেছে।

অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার আর এক নিদর্শন হচ্ছে—১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রফতানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতেই সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোয়  অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জমির অভাবে অনেক বড় ধরণের বিনিয়োগ উদ্যোগ যা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, মহাচীন থেকে পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো বাস্তব রূপ পায় না। সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সাধনের জন্য ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। আরও ২৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একটি সূত্র।

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর অংশ হিসেবেই এই ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যে আরও কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত করা হবে। এ সব অঞ্চল  চূড়ান্ত রূপ পেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিপ্লব সাধিত হবে আশা করছে সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ, মংলা, মিরসরাই, আনোয়ারা, ও শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

বংলাদেশের অর্থনীতিতে আরেক বিপ্লব সাধিত হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের বাওশিয়ায় নির্মিতব্য বিজিএমইএর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ অঞ্চলটি আগামী দিনের অর্থনীতিতে বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ শিল্প পার্কটি চালু হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নতুন যুগে প্রবেশ করবে। জানা গেছে, এই শিল্প পার্ক থেকেই প্রতিবছর ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রফতানি সম্ভব হবে। এখানে কাজ করবে আড়াই লাখ শ্রমিক। এটি হবে চীনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। তৈরি পোশাক কারখানা ছাড়াও এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত শিল্প পার্কে ৫ তারকা হোটেল, শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, গাড়ি পার্কিংসহ শিল্প কারখানার জন্য সব ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে।

সরকার ইতোমধ্যেই যে ৩০টি এলাকায় ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প অনুমোদন করেছে সেগুলো হচ্ছে—বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাগেরহাট জেলায় মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, আনোয়ারা (গহিরা) অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরের শ্রীপুরে জাপানিজ ইকনোমিক জোন, কক্সবাজারের সাবরং ট্যুরিজম এসইজেড, বরিশালের আগৈলঝড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল (২), ঢাকা আইটি এসইজেড কেরানীগঞ্জ, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়নগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ভোলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কুষ্টিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল, পঞ্চগড় অর্থনৈতিক অঞ্চল, নীলফামারী অর্থনৈতিক অঞ্চল, নরসিংদী অর্থনৈতিক অঞ্চল, মানিকগঞ্জ (আরিচা বিআইডব্লিইটিএর অব্যবহৃত জমিতে) অর্থনৈতিক অঞ্চল, ঢাকার দোহার অর্থনৈতিক অঞ্চল, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট অর্থনৈতিক অঞ্চল, শরিয়তপুরের জাজিরা অর্থনৈতিক অঞ্চল, শরিয়তপুরের গোসাইরহাট অর্থনৈতিক অঞ্চল, কক্সবাজারের টেকনাফের জালিয়ারদ্বীপ অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়নগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকনোমিক জোন, বাগেরহাটের মংলা ফমকম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, একে খান বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, আব্দুল মোনেম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ও মুন্সীগঞ্জের বাওশিয়ায় বিজিএমইএর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

অর্থমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, কৌশলগত কারণেই অনুমোদিত এই ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীন ও জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সংরক্ষিত আছে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্যও এরকম একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আরও ৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারের পক্ষ থেকে জমি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ, যোগাযোগ অবকাঠামো যোগানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

/এসআই/এমএনএইচ/

আপ-এমপি

লাইভ

টপ