X
বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২
২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

ভোজ্যতেল নিয়ে খেলছে কে?

সাদ্দিফ অভি
০৮ মার্চ ২০২২, ২০:৫০আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২২, ১৬:২৭

ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে জটিল সমীকরণের খেলা চলছে। বাজারে তেলের সরবরাহ কম। অনেক দোকানে বোতলজাত তেলও নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা দোষ চাপাচ্ছেন ডিলারের ঘাড়ে। ডিলাররা দোষ দিচ্ছেন মিল মালিকদের। একই চিত্র দেখা যায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকেও। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) এই বৈঠক হয়। এতে দোকান মালিক সমিতি, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ও ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সয়াবিন তেলের দাম প্রসঙ্গে জানতে চান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। এ সময় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করলে মহাপরিচালক থামিয়ে দেন।

সফিকুজ্জামান ব্যবসায়ীদের কাছে মিল থেকে অতিরিক্ত দামে কেনার প্রমাণ হিসেবে পাকা রসিদের কথা বললেও তা অনেকের কাছে ছিল না। তাছাড়া বৈঠকে বেরিয়ে আসে, কতিপয় ডিলার মিল থেকে সাপ্লাই অর্ডার (এসও) নিলেও তা আরেক হাতে বিক্রি করে দেয়। কয়েক হাত বদল হয়ে অতিরিক্ত দামে ঢাকার বাইরে চলে যায় সেই তেল। যদিও ট্যারিফ কমিশন আইন অনুযায়ী এটা অবৈধ।

পাকা বিল নিয়ে ব্যবসায়ীরা অধিদফতরের কাছে কিছু সময় চান। অধিদফতর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেয়। সভায় ব্যবসায়ী নেতারা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিলে দেশ অচল হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার চেষ্টা করলেও মহাপরিচালক বলেন– এখন সেই দিন নেই। এ সময় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন কিছু দিনের জন্য অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান।  

সভায় পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আজমল হোসেন বাবলু বলেন, এক সপ্তাহের হিসাব পর্যালোচনা করে আপনারা দেখেন, মিল আমাদের কত মাল ডেলিভারি দিয়েছে। তাহলে প্রকৃত চিত্রটা দেখা যাবে। আমাদের এখানে এসে কথা শুনতে হয় এবং ব্যবসায়ীদের কাছেও শুনতে হয়।

অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজারের অনেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা আর তেল বিক্রি করবো না। আজ বা কাল থেকে মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা যদি খুচরা পর্যায়ে তেল বিক্রি না করে আর এই বার্তা যদি ঢাকার অলিগলিতে যায় তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয় পাবে, তারা মনে করবে তেলই হয়তো উধাও হয়ে গেছে। এজন্য আমাদের অনুরোধ—আমরা তো মাঠে আছি, একটু সময় দেন। আমাদের মিল গেটে নিয়োগ দিন। একটা কমিটি করুন। আমরা দেখি কয় গাড়ি তেল বের হয়। এই দায় আমাদের ঘাড়ে নিতে চাই না।

এসময় ভোক্তার মহাপরিচালক তার জবাবে বলেন, ‘আপনার অজান্তে বা জেনেশুনে বলে ফেলেছেন যে মৌলভীবাজার অচল হলে দেশ অচল হবে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। তেল দিয়ে অচল করতে পারবেন না। আপনারা বলছেন মিলগেট থেকে তেল কম আসছে। কিন্তু আপনারা কত দিয়ে কিনছেন আর কততে বিক্রি করছেন সেটা বলেননি।’

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা দেখবো সাপ্লাই অর্ডার কয় হাত বদল হয়েছে। আপনারা সেই তথ্য আমাদের দিয়ে যাবেন।

মালিবাগ বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান বলেন, আমাদের কাছে ডিও রিসিপ্ট আছে। কিন্তু পাকা রসিদ নেই। ডিও রিসিপ্টে দাম লেখা নেই। আমাদের কী পরিমাণে তেল দিচ্ছে সেই হিসাব দেওয়া হয় না। আমরা ছোট ব্যবসায়ীরা যখন একদামে তেল কিনি, ওনারা আমাদের পাকা রসিদ দেয় না। যার কারণে সরকারের রেটে আমরা তেল পাচ্ছি না। তখন আমাদের বিক্রি বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।

এসময় রশিদ ট্রেডার্স নামের এক ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. হারুনুর রশিদ জানান, আমি গত এক মাসে মিল থেকে কোনও ডেলিভারি পাইনি। সরবরাহ বাড়ান। দাম এমনিই কমে যাবে। এই এক মাসে আমার কাছে কোনও ডিও বিক্রি করেনি। যেগুলো ডিও আমাদের আগে দিয়েছে সেগুলো আমরা স্থানীয়ভাবে বিক্রি করেছি। আমরা নিজেরা কিন্তু মাল ওঠাই না। আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পাইকার ডিও কেনে। আমরা তাদের দিয়ে দেই। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন লোকের কাছে এই এসও আমরা বিক্রি করি।

ডিলারের কাজ কি শুধু কাগজ বিক্রি করা কিনা জানতে চাইলে তিনি ‘জি’ বলেন।

এসময় ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আইনে আগে ‘ডিও’ শব্দটি ছিল। সেটা এখন ‘এসও’ হয়েছে। এসও হওয়ার পর এর মেয়াদ হচ্ছে ১৫ দিন। সুতরাং এক মাস ধরে রাখার আইনগত সুযোগ নেই। ১৫ দিনের আগে যে এসও এখন আপনারা ক্লেইম করছেন, আইনগতভাবে এটার ভিত্তি নেই। কারণ, ১৫ দিনের মধ্যেই মাল সংগ্রহ করতে হবে।

মাহমুদুল হাসান বলেন, আইনে আরও বলা হয়েছে মিলগুলো প্রতি এলাকার সীমানা অনুযায়ী ডিস্ট্রিবিউটর নিয়োগ দেবে। যে এলাকার যতটুকু চাহিদা সেই পণ্য যদি সেখানে চলে যায়, রিসেল করার সুযোগই আসে না। আরেক জেলার মাল আপনি কিনে বিক্রি করার সুযোগও আইনে নেই। ১৭টি পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুযোগ নেই। আইনে স্পষ্ট বলা আছে, এসও মার্কেটে তৃতীয়ভাবে হাত বদলের সুযোগও নেই। 

এ সময় হারুনুর রশিদ জানান, তিনি এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

মহাপরিচালক বলেন, উনি কাগজ বিক্রি করছেন। যারা নিচ্ছে তারাও হাতবদল করে বিক্রি করছে। এটা ব্ল্যাকমার্কেটের কাজ।

সভা শেষে মহাপরিচালক বলেন, ‘এই যে ডিলারশিপ বা এসও যেটা আছে, এখানে একটা বড় কারসাজি আছে। এটা নিয়ে গত দুই বছর আগেও অনেক কথা হয়েছে। ডিলারদের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে আমরা একটি চিঠি দেবো। এখানে আদৌ কী হচ্ছে সেটা আমরা দেখবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল মিল মালিকদের সঙ্গে বসবো। আমাদের পক্ষ থেকে আমদানিকারকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে নতুন তেলের এলসি যে দামে হবে সেই অনুযায়ী আমরা তেলের দাম সমন্বয় করবো। দেশে যে পরিমাণ মজুত আছে তাতে আগামী রমজান পর্যন্ত চলার কথা।’

 

 

 
 
/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবি, ১৩ জেলে নিখোঁজ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবি, ১৩ জেলে নিখোঁজ
এ বিভাগের সর্বশেষ
নানা অজুহাতে আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব
নানা অজুহাতে আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব
সোমবার থেকে আবারও টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু
সোমবার থেকে আবারও টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু
আরও ৫০ হাজার টন গম কেনার সিদ্ধান্ত
আরও ৫০ হাজার টন গম কেনার সিদ্ধান্ত
দাম কমানো সয়াবিন তেল বাজারে নেই
দাম কমানো সয়াবিন তেল বাজারে নেই
লিটারে ১৪ টাকা কমলো সয়াবিন তেলের দাম
লিটারে ১৪ টাকা কমলো সয়াবিন তেলের দাম