দেশের ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, যেখানে বড় বড় ব্যাংকগুলোর খুব খারাপ অবস্থা, সেখানে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) খুব ছোট হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবছর ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিডিবিএলের বার্ষিক ডিভিডেন্ডের ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম, বিডিবিএল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলী, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জিল্লুর রহমান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শাহাবুদ্দিন আহমদ, এখলাছুর রহমান, মুশতাক আহমদ, আবু হানিফ খান, ডিএমডি মো. জালালউদ্দিন, ওয়াহিদুজ্জামান খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রীর হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা ও লভ্যাংশের ১০ কোটি টাকার চেক অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিডিবিএল ২০১৪ সালে ৪০ কোটি টাকা, ট্যাক্স ও ১০ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড দিয়েছে। বিপরীতে এ বছর বিডিবিএল কর পূর্ব নিট মুনাফা করেছে ১৪৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। একইভাবে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ২৮ টাকা ২৩ পয়সা। যা ২০১৩ সালে ছিল ২২ টাকা ০৭ পয়সা। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ২০১৪ সালে ব্যাংকের অ্যালিজিবল ক্যাপিটাল ১ হাজার ৩০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিডিবিএল প্রতিবছরই ডিভিডেন্ড দেয়। আমি অপেক্ষা করছি, আমি স্বপ্ন দেখছি, কবে দেশের সব ব্যাংক এভাবে সরকারকে ডিভিডেন্ড দেবে। সব কিছুতেই মডেল আছে। এক্ষেত্রে বিডিবিএল অন্যান্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে মডেল হতে পারে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সচিব ড. আসলাম বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যদিও ১০ কোটি টাকা খুব বেশি নয়। তারপরেও ভালো, যে বিডিবিএলকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না। ব্যাংকটি রাষ্ট্রের ট্যাক্স পরিশোধ করেছে। লভ্যাংশ দিয়েছে। বিডিবিএল ব্যাংকে কমিশন ঘাটতি নাই, মূলধন ঘাটতিও নাই।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী বলেছেন, যে অর্থমন্ত্রী ৩ লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করেন, সেই অর্থমন্ত্রীর কাছে যদিও ১০ কোটি টাকা বেশি নয়। তার পরেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছ থেকে লভ্যাংশ পাওয়াটাই বড় কথা। আমরা ব্যাংকটিকে ভালো করার চেষ্টা করছি। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রের পাওনা কর দিয়েছি, ডিভিডেন্ডও দিলাম। অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ও বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক একীভূত হওয়ার আগে এখান থেকে অনেকেই টাকা নিয়ে নিজের জন্য পৃথক ব্যাংক বানিয়েছেন, কিন্তু সরকারের পাওনা টাকা সরকারকে ফিরিয়ে দেয়নি।
এমডি ড. জিল্লুর রহমান বলেছেন, ৫ বছর আগে যে দায়িত্ব পেয়েছিলাম তা পালনে সচেষ্ট ছিলাম। সরকারি প্রতিষ্ঠান চালিয়ে লভ্যাংশ দিতে এসেছি। সরকারের কাছ থেকে টাকা নিতে আসিনি।
উল্লেখ্য, বিডিবিএল ২০১৩ সালের লভাংশ হিসেবে সরকারি কোষাগারে ১০ কোটি টাকার ঢিভিডেন্ড দিয়েছিল। ওই বছর ব্যাংকটি আয় করেছিল ১৪৮ কোটি টাকা।
/এসআই / এএইচ /







