ব্যবসায়ীদের আস্থা এখনও পুরোপুরি ফেরেনি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৪আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৪

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হলেও দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক বার্তা তৈরি হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এখনও অপেক্ষা করছেন সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ এবং আগামী জাতীয় বাজেটের দিকনির্দেশনার জন্য।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী হেলেন মাশিয়েত প্রিয়তি, গবেষক তামিম আহমেদসহ সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, আর্থিক খাতের নানা সমস্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনীতি এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। জ্বালানি, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার ব্যয় বৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে পণ্য ও সেবার দামের ওপর। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে এখনও কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে যাওয়ার আগে সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর কাঠামো, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সংস্থাটি মনে করে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি উত্তরণপর্ব অতিক্রম করছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বেসরকারি বিনিয়োগই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রধান চালিকাশক্তি। তাই আগামী বাজেট ও সরকারের অর্থনৈতিক নীতিমালার দিকে এখন নজর রয়েছে ব্যবসায়ী মহল ও বিনিয়োগকারীদের। এগুলোর ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে দেশের অর্থনীতির আগামী দিনের গতিপথ।

/জিএম/আরকে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পপগুরু আজম খান: বিদ্রোহ, গিটার আর এক অনন্ত সংগীতভাষা
স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলিপপগুরু আজম খান: বিদ্রোহ, গিটার আর এক অনন্ত সংগীতভাষা
ভ্যাট রিটার্নে বড় পরিবর্তন আসছে 
ভ্যাট রিটার্নে বড় পরিবর্তন আসছে 
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও পদ্মায় ডুবে গেলো বাস
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও পদ্মায় ডুবে গেলো বাস
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের