দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে। যেহেতু নির্ধারিত দামের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পুনঃক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালাই অনুসরণ করা হবে।
এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) বাজুস ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমানো হলো।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ দফা দাম বেড়েছে, ৪৬ দফা কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ২৯ বার কমানো হয়।
অপরদিকে স্বর্ণের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ বার দাম বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার; এর মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ানো এবং তিনবার কমানো হয়।









